চব্বিশের ভোটে শুধু বুথ নয়, নজরদারি চলবে বাইরেও! ‘নন্দীগ্রামের হার’ মনে করিয়ে মমতা-কে বিঁধলেন শুভেন্দু

বাংলার বিদায়ী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফা এবং নতুন রাজ্যপাল আরএন রবি-র নিয়োগ ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রাজ্যপালকে ভয় দেখানোর’ তত্ত্বকে নস্যাৎ করে দিয়ে রবিবার মালদার গাজোলে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিজেপির পরিবর্তন রথযাত্রার মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংবিধানের এবিসিডি শেখানোর জন্য নতুন রাজ্যপাল আসছেন!”
তৃণমূলকে ‘রাস্তায় বসানোর’ হুঁশিয়ারি শনিবার মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে আনন্দ বোসকে থ্রেট করে সরানো হয়েছে। তার পাল্টা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “উনি সকালে, বিকেলে আর রাতে একেক রকম কথা বলেন। এখন রাস্তায় বসা অভ্যেস করছেন, এপ্রিলের পর ওনাকে ওখানেই বসতে হবে।” শুভেন্দুর সাফ দাবি, এবার ভোট অন্যরকম হবে। শুধু বুথের ভিতরে নয়, বাইরেও ক্যামেরা থাকবে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে ‘প্রাক্তন’ করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন নন্দীগ্রামের হারের কথা।
দুর্নীতি ও রেশন কেলেঙ্কারিতে তোপ গাজোলের সভা থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদির দেওয়া ভালো চাল-গম বাংলাদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। বদলে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে দেওয়া হচ্ছে পোকা ধরা গম। তাঁর দাবি, “সেই আটা গবাদি পশুও খেতে চায় না।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে রেশন সরাসরি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর অনুদান বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
আরজি কর থেকে কর্মসংস্থান: সরব শুভেন্দু রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শুভেন্দু বলেন, আরজি করের ঘটনায় মানুষের চোখ দিয়ে জলের বদলে রক্ত বেরিয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিনীত গোয়েল বা সন্দীপ ঘোষের মতো কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এছাড়া, শিক্ষিত যুবতীদের চাকরি এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি বাংলায় শিল্প আনবে এবং টাটা গোষ্ঠী ফেরানোর চেষ্টা করবে। মালদার বন্যা ত্রাণ ও ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেও তৃণমূলের পঞ্চায়েত স্তরের নেতাদের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।