নাম চূড়ান্ত, তবু কেন কাঁপছে ইরান? নতুন ‘সুপ্রিম লিডার’-এর নাম ঘোষণা নিয়ে ধর্মীয় পরিষদে চরম আতঙ্ক!

ইরানের আকাশে এখন শুধু বারুদের গন্ধ আর অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর থেকেই তেহরানের মসনদ নিয়ে দড়ি টানাটানি তুঙ্গে। তবে রবিবার বিকেলে পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য আয়াতোল্লাহ মোহাম্মদ মেহদি মিরবাকেরির একটি বয়ান ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা বা ‘সুপ্রিম লিডার’ নির্বাচনের বিষয়ে পরিষদের সদস্যরা প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। কিন্তু নাম চূড়ান্ত হওয়ার পরেও সেই নাম জনসমক্ষে আনতে বুক কাঁপছে খোদ ধর্মীয় পরিষদের!
কেন এই লুকোচুরি? ইরানের ৮৮ সদস্যের শক্তিশালী ধর্মীয় পরিষদই নতুন নেতা নির্বাচন করে। পরিষদের প্রবীণ সদস্যদের মতে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা। আয়াতোল্লাহ মোহসেন হেইদারি আল-কাসির একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সশরীরে বৈঠক করা মানেই শত্রুপক্ষকে (ইজরায়েল ও আমেরিকা) বড় সুযোগ করে দেওয়া। এর আগে কুম শহরে পরিষদের একটি ভবনে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। ফলে সব সদস্য এক জায়গায় জড়ো হলে ফের আকাশপথের হানা বা ‘টার্গেটেড কিলিং’-এর শিকার হওয়ার ভয় পাচ্ছেন তাঁরা।
মোজতবা খামেনেই কি তবে নিশ্চিত? নেতৃত্বের দৌড়ে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনেইর নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে আসছে। খামেনেইর ছেলে হওয়ার পাশাপাশি ইরানের শক্তিশালী রেভোলিউশনারি গার্ডস বা IRGC-র সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে মোজতবার নাম ঘিরে দেশের ভেতরেও ক্ষোভ রয়েছে। বিশেষ করে ২০২২-এর সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় তাঁর কঠোর দমননীতির কথা ভোলেননি সাধারণ ইরানিরা। তবুও বর্তমান রণ পরিস্থিতিতে সেনার সমর্থন থাকায় মোজতবাই যে তখতে বসতে চলেছেন, তা একপ্রকার নিশ্চিত।
প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও বিবাদ পরিষদের ভেতর একদল চাইছেন প্রথা মেনে সশরীরে বৈঠক করে নেতার নাম ঘোষণা করতে। অন্যপক্ষ চাইছে ভার্চুয়ালি বা নিরাপদ দূরত্বে থেকে কাজ সারতে। এদিকে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন নেতা ঘোষণা হওয়ামাত্রই তাঁকেও খামেনেইর ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে। এই চরম প্রাণসংশয় আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মাঝেই ইরানের ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।