ইজরায়েলি হানায় ছারখার জ্বালানি ডিপো, তবুও নতিস্বীকার নয়! আমেরিকার ‘সারেন্ডার’ প্রস্তাব ফেরাল তেহরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিধ্বংসী হামলায় কার্যত জ্বলছে ইরান। রবিবার ভোরে তেহরানের কাছে একাধিক জ্বালানি ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর রাতের আকাশ কমলা রঙের লেলিহান শিখায় ঢেকে যায়। এই চরম অস্থিরতার মাঝেই ইরান থেকে এল এক বড় খবর। গত সপ্তাহে আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর অবশেষে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা বা ‘সুপ্রিম লিডার’-এর নাম চূড়ান্ত করার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় কাউন্সিল।
তেহরানের ভয়াবহ পরিস্থিতি ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরানের সেই সব জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যা বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) ব্যবহার করছিল। বাসিন্দাদের মতে, আগুনের তীব্রতায় রাত যেন দিন হয়ে গিয়েছিল, আবার ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে সকালের সূর্যও ঢাকা পড়েছে অন্ধকারে। মার্কিন বাহিনীও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে। ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়েও ইরান কিন্তু হাল ছাড়তে নারাজ। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই নতুন নেতার নাম প্রকাশ করা হবে, তবে ইজরায়েলি ‘হিটলিস্ট’-এর ভয়ে তা অত্যন্ত গোপন রাখা হচ্ছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতেও যুদ্ধের আঁচ এই যুদ্ধ কেবল ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সীমান্তে প্রাণ হারিয়েছেন দুই নিরাপত্তারক্ষী। বাহরাইনের একটি জল শোধন প্ল্যান্টও (Desalination Plant) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের পানীয় জলের প্রধান উৎস। সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪-তে। রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরানের রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, দেশে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ১,৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি ও ট্রাম্পের দাবি ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সমূলে বিনাশ করা। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর দাবি তুলেছেন। তেহরান সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা আয়াতোল্লাহর মৃত্যুর বদলা নেবেই। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো দখল করতে স্থলবাহিনীও পাঠানো হতে পারে। আপাতত তেলের বাজারে আগুন লেগেছে; আমেরিকায় পেট্রোলের দাম এক ধাক্কায় ১৬ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।