বেশি জল খাচ্ছেন না কি কম? সাবধান! আপনার প্রস্রাবের রংই বলে দেবে আপনি কতটা সুস্থ

সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত জলপানের বিকল্প নেই। কিন্তু আপনি দিনে কতটুকু জল খাচ্ছেন এবং সেই জল আপনার শরীরে ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তার সবথেকে বড় ইন্ডিকেটর হলো আপনার প্রস্রাবের রং। ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই জল পানের হিসেব রাখতে ভুলি। চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবের রঙের সামান্য পরিবর্তনও হতে পারে বড় কোনো রোগের আগাম সতর্কবার্তা।

কোন রং কীসের ইঙ্গিত?

  • স্বচ্ছ বা জলের মতো: অনেকে ভাবেন প্রস্রাব স্বচ্ছ হওয়া মানেই খুব ভালো। আসলে তা নয়। এর অর্থ আপনি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জল খাচ্ছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ওয়াটার ইনটক্সিকেশন’ বা হাইপোনেট্রেমিয়া বলা হয়। এতে রক্ত পাতলা হয়ে লবণের ঘনত্ব কমে যেতে পারে।

  • হালকা হলুদ বা ফ্যাকাশে: এটিই হলো আদর্শ রং। এর অর্থ আপনার শরীর হাইড্রেটেড এবং আপনি সঠিক পরিমাণে জল পান করছেন।

  • গাঢ় হলুদ বা কমলা: প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হওয়ার মানে হলো আপনার শরীরে জলের ব্যাপক ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন হয়েছে। অনেক সময় ভিটামিন বি-র ওষুধ বা নির্দিষ্ট কিছু খাবার খেলেও এমনটা হতে পারে। তবে নিয়মিত এমন হলে জল পানের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

  • বাদামি বা কালচে: এটি বিপদের লক্ষণ। প্রস্রাব যদি তামাটে বা বাদামি রঙের হয়, তবে বুঝতে হবে লিভারের কোনো সমস্যা (যেমন Rhabdomyolysis বা Alkaptonuria) দানা বাঁধছে। অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  • লালচে বা গোলাপি: খাবারের রং বা বিট জাতীয় খাবার ছাড়াও অনেক সময় প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত মিশলে এমন হয়। এটি কিডনি বা মূত্রনালীর গুরুতর সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।

কখন সতর্ক হবেন? প্রস্রাবের রং যদি নীলচে, সবুজ বা দুধের মতো সাদা হয়, তবে তা কোনো বিশেষ সংক্রমণ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফল হতে পারে। মনে রাখবেন, আমাদের শরীরের ৭০ শতাংশই জল। তাই প্রস্রাবের রঙের মাধ্যমে শরীর আপনাকে যে সংকেত দিচ্ছে, তা অবহেলা করা মানেই বড় বিপদকে ডেকে আনা।