রাষ্ট্রপতির অপমান না কি ব্যক্তিগত ক্ষোভ? মমতাকে বিঁধলেও দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে কী বললেন সিপিএম সাংসদ?

দার্জিলিংয়ে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাত এখন তুঙ্গে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিকে ‘অসম্মান’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অন্যদিকে এই বিতর্কে ঘি ঢাললেন সিপিআই(এম) সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণের নিন্দা করেছেন, তেমনই রাষ্ট্রপতির প্রকাশ্য ক্ষোভ প্রকাশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

মমতাকে আক্রমণ, রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বিস্ময়: সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সাফ জানান, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর আচরণ অবশ্যই নিন্দার যোগ্য। তাঁরা যে পদে আসীন, সেই পদের গরিমা এই ধরনের আচরণে ক্ষুণ্ণ হয়।” তবে এর পরেই তিনি যোগ করেন, “আমি অবাক হয়েছি যে ভারতের রাষ্ট্রপতি একটি প্রকাশ্য সভায় নিজের এমন ‘ছোটখাটো’ অনুভূতি বা ব্যক্তিগত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সম্ভবত তিনি দেখছেন প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীরা সব মঞ্চকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেন, তাই তিনিও সেই পথেই হেঁটেছেন।”

মোদীর কড়া তোপ: আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে একহাত নেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি নিজে আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। তিনি যখন সাঁওতালদের সম্মান জানাতে বাংলায় গেলেন, তখন তৃণমূল সেই অনুষ্ঠান বয়কট করে চরম অসম্মান দেখাল।” মোদীর মতে, এটি কেবল রাষ্ট্রপতির অপমান নয়, গোটা আদিবাসী সমাজের অপমান।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: কংগ্রেস নেতা ইমরান মাসুদও এই ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দেশের সাংবিধানিক প্রধানের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না। বিজেপি ইতিমধ্যেই এই বিষয়টিকে আদিবাসী বিরোধী তকমা দিয়ে রাজ্যে প্রচার শুরু করেছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, কোনো প্রোটোকল ভাঙা হয়নি এবং বয়কটের অভিযোগ ভিত্তিহীন। সব মিলিয়ে পাহাড়ের সাঁওতাল সম্মেলন এখন রাজ্য রাজনীতির প্রধান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।