ব্রহ্মোস থেকে স্কাল্প— সব বয়ে বেড়াবে তেজস Mk2! ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তিবৃদ্ধিতে নয়া বিপ্লব

ভারতীয় বায়ুসেনার তূণে যুক্ত হতে চলেছে এক অপ্রতিরোধ্য শর। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মাঝারি ওজনের যুদ্ধবিমান HAL Tejas Mk2-কে এবার আরও ‘ভারী আঘাতকারী’ বা হেভি স্ট্রাইকার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই বিমানটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শুরু থেকেই এটি বিশ্বের তাবড় সব দূরপাল্লার এবং নির্ভুল নিশানার অস্ত্র বহন করতে পারে। বিশেষত, ফরাসি যুদ্ধবিমান রাফালের ব্যবহৃত SCALP-EG ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইজরায়েলি ক্রিস্টাল মেজ প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে এই নতুন শিকারিকে।

তেজস Mk1-এর তুলনায় Mk2 সংস্করণে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। এর ফিউজলেজ বা মূল কাঠামোটি অনেক বড়, যা একে আরও বেশি অস্ত্র ও জ্বালানি বহনে সক্ষম করে তুলেছে। এর হৃদপিণ্ডে থাকছে শক্তিশালী GE F414-GE-INS6 টার্বোফ্যান ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনটি বিমানটিকে অতিরিক্ত থ্রাস্ট বা শক্তি প্রদান করবে, যার ফলে ভারী যুদ্ধাস্ত্র নিয়েও এটি দীর্ঘ দূরত্ব অনায়াসে পাড়ি দিতে পারবে। শুধু বিদেশি অস্ত্রই নয়, তেজস Mk2 হবে দেশীয় প্রযুক্তির এক অনন্য প্রদর্শনী। এতে ভারতের নিজস্ব Astra Mk1 এবং দূরপাল্লার Astra Mk2 ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করা হচ্ছে। আকাশ যুদ্ধের জন্য থাকছে ইনফ্রারেড গাইডেড ASRAAM মিসাইল।

স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে তেজস Mk2-তে থাকছে একগুচ্ছ ঘাতক অস্ত্র। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই বিমানে যুক্ত হবে সুপারসনিক ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের ছোট সংস্করণ ব্রহ্মোস-এনজি। এছাড়াও শত্রুর রাডার ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে এতে থাকবে রুদ্রম অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল এবং চরম নির্ভুলতার জন্য সুদর্শন লেজার-গাইডেড বোমা। এই বহুমুখী ক্ষমতার কারণে তেজস Mk2 একইসাথে আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা এবং শত্রুর সীমানার অনেক গভীরে ঢুকে নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম হবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় এবং পশ্চিমা অস্ত্রের এই সংমিশ্রণ ভারতীয় বায়ুসেনাকে এশিয়ার আকাশে অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে।