তেলের দাম ৯২ ডলার পার, টাকার রেকর্ড পতন! বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ‘রান’ কি ধস নামাবে বাজারে?

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান রণদামামা এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় কার্যত কাঁপছে ভারতীয় শেয়ার বাজার। গত মাত্র চারটি ট্রেডিং সেশনে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPI) ভারতীয় বাজার থেকে প্রায় ২১,০০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই (২-৬ মার্চ) এই বিশাল অঙ্কের মূলধন প্রত্যাহারের ঘটনাটি ঘটেছে, যা লগ্নিকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে ২২,৬১৫ কোটি টাকার রেকর্ড বিনিয়োগ এসেছিল, সেখানে মার্চের শুরুতেই এই ধস বাজারের অনিশ্চয়তাকে প্রকট করে তুলেছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রক্তক্ষরণের প্রধান কারণ ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চরম উত্তেজনা। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইজরায়েল হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯২ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ভারত যেহেতু তার প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগ আমদানি করে, তাই তেলের এই অগ্নিমূল্য ভারতীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে ভারতীয় টাকার রেকর্ড পতন। ডলারের তুলনায় টাকার দাম ৯২-এর গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা লোকসানের ভয়ে দ্রুত টাকা তুলে নিচ্ছেন। যখনই ডলার শক্তিশালী হয়, বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য রিটার্ন কমে যায়, যার ফলে তারা উদীয়মান বাজার থেকে মূলধন সরিয়ে নিতে শুরু করে। এর পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড বৃদ্ধি এবং আইটি সেক্টরে আশানুরূপ কর্পোরেট আয়ের অভাব বাজারকে আরও চাপে ফেলেছে।

তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পিছু হটলেও বাজারকে আগলে রেখেছে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (DII)। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ডে মাসিক এসআইপি (SIP) এবং সাধারণ খুচরো বিনিয়োগকারীদের আস্থাই বাজারকে সম্পূর্ণ ধসে পড়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টসের বিশেষজ্ঞ ভি কে বিজয়কুমার জানিয়েছেন, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাবর্তন কঠিন। বর্তমান পরিস্থিতিতে লগ্নিকারীরা এখন নিরাপদ সম্পদের সন্ধানে সোনা বা সরকারি বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন।