‘রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে, প্রধানমন্ত্রী কেন বসে?’ ছবি দেখিয়ে মোদীকে বেনজির আক্রমণ মমতার!

ভোটের বাদ্যি বাজতেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। একদিকে বিজেপি যখন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রতি অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলছে, ঠিক তখনই পাল্টা রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তুললেন— “রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে রয়েছেন, অথচ প্রধানমন্ত্রী বসে? আমরা এমনটা করি না।”
রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আবহে ধর্মতলায় প্রতিবাদী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিলিগুড়ির ওই অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, আয়োজকরা রাজ্য সরকারকে ব্রাত্য করে রেখেছিল এবং অনুষ্ঠানের স্থানটি ছিল এয়ারপোর্ট অথরিটির অধীনে। মমতার কথায়, “অনুষ্ঠানটি রাজ্য সরকারের ছিল না, সংগঠকরা আমাদের ডাকেনি। এটা সম্পূর্ণ এয়ারপোর্ট অথরিটির ব্যর্থতা।” এরপরই তিনি জুন মালিয়া ও বীরবাহা হাঁসদাকে নির্দেশ দেন একটি বিশেষ ছবি প্রদর্শন করার জন্য, যেখানে দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী বসে রয়েছেন। এই ছবিকে হাতিয়ার করেই মোদীকে সৌজন্যের পাঠ দিলেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, শুধুমাত্র লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসছে বলেই সুকৌশলে পশ্চিমবঙ্গকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কেন বারবার বাংলাকে দোষারোপ করা হচ্ছে? আমি মানুষের অধিকারের জন্য এখানে লড়াই করছি। ধর্না ছেড়ে আমি কীভাবে অজানা কোনো অনুষ্ঠানে যাব যেখানে আমাকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি?” মেয়রের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি প্রমাণ করতে চান যে প্রশাসনের প্রতিনিধি সেখানে ছিল।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ‘ছোট বোন’ সম্বোধন এবং দুঃখপ্রকাশের প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন এয়ারপোর্ট অথরিটির পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গ্রিনরুম থেকে শুরু করে যাতায়াত— সবটাই কেন্দ্রীয় সংস্থার অধীনে ছিল বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর টুইটের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা কোটি কোটি বার নারী দিবস পালন করব, এতে কারও কথা শোনার প্রয়োজন নেই।” সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী বনাম প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বৈরথ এখন তুঙ্গে।