‘রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান মানে দেশকে অসম্মান’, মমতার বিরুদ্ধে রণংদেহী মেজাজে কেয়া ঘোষ!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সংঘাতের আবহ নতুন কিছু নয়, তবে এবার সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে খোদ দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বঙ্গ সফরে আসা রাষ্ট্রপতির প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ নিয়ে এবার সরব হলেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, “রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করা মানেই খোদ দেশকে অসম্মান করা।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দ।

বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু যখন বাংলা সফরে এসেছেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর প্রতি যে সৌজন্য ও সম্মান প্রদর্শনের প্রয়োজন ছিল, তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এটি কেবল একজন ব্যক্তির প্রতি অসম্মান নয়, বরং ভারতের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের অবমাননা। কেয়া ঘোষ এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীকে রীতিমতো একহাত নিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এবং সংবাদমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান যে, একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হয়ে অন্য একজন মহিলা রাষ্ট্রপতির প্রতি এই ধরণের উদাসীনতা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

কেয়া ঘোষের মতে, রাষ্ট্রপতি কোনো দল বা বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন, তিনি দেশের প্রতীক। তাঁকে উপেক্ষা বা অসম্মান করার অর্থ হল ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আঘাত করা। তিনি আরও যোগ করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচরণ আবারও প্রমাণ করে দিল যে তিনি সংবিধানের রীতিনীতির তোয়াক্কা করেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধেই বিজেপি কর্মীরা সোচ্চার হয়েছেন এবং রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের সুর চড়া হচ্ছে।

পাল্টা তৃণমূলের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া আসা শুরু হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, বিজেপি প্রতিটি ছোট বিষয়কে রাজনীতিকরণ করতে চাইছে। তবে কেয়া ঘোষের এই তীক্ষ্ণ আক্রমণ সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সত্যিই কি শিষ্টাচারের অভাব ছিল, নাকি এটি কেবলই রাজনৈতিক চাপানউতোর? এই তরজা এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।