এসি না এসি-র দাম, এপ্রিলে কোনটি বেশি ঘামাবে আপনাকে? ভোল্টাস-ডাইকিনদের বড় সিদ্ধান্তে মাথায় হাত মধ্যবিত্তের!

বসন্ত বিদায় নিতে না নিতেই দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে গ্রীষ্ম। গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভাঙা দাবদাহে এসি এখন বিলাসিতা নয়, বরং মধ্যবিত্তের যাপনের অন্যতম প্রয়োজনীয় অংশ। কিন্তু এই বছর এসি কেনার পরিকল্পনা থাকলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, এপ্রিলের আগেই বাজার কাঁপিয়ে এসির দাম বাড়তে চলেছে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত। ভোল্টাস, এলজি, ডাইকিন কিংবা হায়ারের মতো অগ্রণী সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এই মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে।

মূলত তিনটি প্রধান কারণে এসি-র দাম আকাশছোঁয়া হচ্ছে। প্রথমত, সোনা-রুপোর মতো পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তামা বা কপারের দাম। গত বছরের অক্টোবর থেকে তামার দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এসি তৈরির মূল কাঁচামাল। দ্বিতীয়ত, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি-র নতুন নীতি কার্যকর হয়েছে। নতুন প্রযুক্তির কারণে এসিগুলি আগের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হলেও, তা তৈরিতে খরচ বাড়ছে সংস্থার। তৃতীয়ত, মাল পরিবহণ বা লজিস্টিক্স খরচের ব্যাপক বৃদ্ধিও প্রভাব ফেলছে খুচরো মূল্যের ওপর।

শিল্পমহল সূত্রে খবর, এলজি তাদের ৩-স্টার মডেলে ৭ শতাংশ এবং ৫-স্টার মডেলে প্রায় ১০ শতাংশ দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে। হায়ারের মতো সংস্থাও এক ধাক্কায় অনেকটা দাম বাড়াতে পারে। তবে দাম বাড়লেও ভোল্টাসের মতো সংস্থা আশাবাদী যে, প্রবল গরমের পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে এসির বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫-২০ শতাংশ বাড়বে। যদিও শুরুতে খরচ বেশি হবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন নতুন এসিগুলো অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে আপনার মাসিক ইলেকট্রিক বিল কমিয়ে সাশ্রয় নিশ্চিত করবে।