আপনার নাম কি ভোটার তালিকায় আছে? কোচবিহারের এই ৩ কেন্দ্রে শোরগোল, নবান্ন পর্যন্ত পৌঁছল জল

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে কোচবিহার জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উত্তেজনা। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারদের নাম ‘বিচারাধীন’ (Under Review) এবং ‘বাতিল’ হওয়ার সংখ্যা দেখে কার্যত চোখ কপালে উঠেছে রাজনৈতিক মহলের। প্রশাসনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলার ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে দিনহাটা, সিতাই ও শীতলকুচিতেই এই সংকটের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

পরিসংখ্যানের ভয়াবহ চিত্র: সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলা জুড়ে মোট ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ১০৭ জন ভোটারের নাম বর্তমানে বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র দিনহাটা, সিতাই ও শীতলকুচি—এই তিন সীমান্তবর্তী কেন্দ্রেই রয়েছেন ১ লক্ষ ৩ হাজার ৫৪৮ জন ভোটার।

  • দিনহাটা: ৩৫,৯৩২ জন বিচারাধীন।

  • সিতাই: ৩৬,৪০৫ জন বিচারাধীন।

  • শীতলকুচি: ৩১,০২০ জন বিচারাধীন।

এছাড়াও মৃত, নিখোঁজ বা ডুপ্লিকেট হিসেবে জেলাজুড়ে ১ লক্ষ ১৩ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে এই তিন কেন্দ্রেই বাদ পড়েছেন প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ। ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে কয়েক হাজার ভোটারকে নোটিসও পাঠানো হয়েছে।

জেলাশাসকের দফতরে আর্তনাদ: নাম বাদ পড়া বা বিচারাধীন তালিকায় চলে যাওয়ার খবর চাউর হতেই জেলাশাসকের দফতরে ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। সিতাইয়ের বাসিন্দা শ্যামলী বর্মন ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “হঠাত করেই স্বামীর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কেন বাদ গেল তার কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই।” দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে মরিয়া।

রাজনৈতিক সংঘাত তুঙ্গে: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, “দিনহাটা, সিতাই ও শীতলকুচি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলেই চক্রান্ত করে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে, বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি বিরাজ বোসের পাল্টা দাবি, “সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা নাম তুলেছিল, এখন যাচাইকরণে তাদের কারচুপি ধরা পড়ছে।” সব মিলিয়ে ভোটের আগেই কোচবিহারের সীমান্ত অঞ্চলে বারুদের গন্ধ।