আবারও ফিরল রঙের উৎসব! কুলটির চট্টরাজ বাড়িতে ‘পঞ্চম দোল’, কেন এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন?

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। দোল পূর্ণিমার আবির ও রঙের আমেজ ফিকে হতে না হতেই বাংলার কিছু প্রান্তে আবারও নতুন করে ফিরে এল বসন্ত উৎসব। দোল উৎসব শেষ হওয়ার ঠিক পাঁচ দিন পর পালিত হলো ‘পঞ্চম দোল’। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের কুলটি সংলগ্ন মিঠানি গ্রাম এবং বাঁকুড়ার পুরন্দরপুরে আজও অটুট ২০০ বছরের এই প্রাচীন ও ব্যতিক্রমী প্রথা।

মিঠানি গ্রামের চট্টরাজ পরিবারের কুলদেবতা বাসুদেব চন্দ্র জিউ-কে কেন্দ্র করেই এই উৎসবের আয়োজন। ২০০ বছর আগে কেন এই অসময়ে দোলের সূচনা হয়েছিল, তার সঠিক কারণ বর্তমান প্রজন্মের অজানা হলেও, নিষ্ঠায় এতটুকু খামতি নেই। রীতি মেনে দোলের মতোই পঞ্চম দোলের আগের রাতে অনুষ্ঠিত হয় ‘চাঁচর’ বা ন্যাড়াপোড়া। চট্টরাজ পরিবারের তিনটি নারায়ণ শিলা— বাসুদেব চন্দ্র জিউ, লক্ষ্মী নারায়ণ জিউ এবং দামোদর চন্দ্র জিউ-কে একই সিংহাসনে বসিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরদিন সকালে দোল মন্দিরে বিগ্রহকে আবির মাখিয়ে শুরু হয় রঙের খেলা।

এক সময় এই উৎসব শুধুমাত্র চট্টরাজ পরিবারের অন্দরে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন তা গোটা গ্রামের মিলন উৎসবে পরিণত হয়েছে। পরিবারের বিবাহিতা কন্যারা এই দিনটির টানে দূর-দূরান্ত থেকে বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন। পরিবারের সদস্য বিচিত্রা চট্টোপাধ্যায় ও তনুশ্রী ভট্টাচার্যের কথায়, “সবাই যখন আধুনিকতার স্রোতে গা ভাসাচ্ছে, আমরা তখন আমাদের ২০০ বছরের ঐতিহ্যকে আগলে রেখে গর্বিত। পরবর্তী প্রজন্মের হাতে এই কৃষ্টি তুলে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।” শীতের বিদায়বেলায় এই ‘পঞ্চম দোল’ যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়— ‘যাওয়ার আগে রাঙিয়ে দিয়ে যাও’।