গুজব না সত্যি? গরালবাড়িতে অপরিচিত যুবককে ঘিরে উত্তেজনা, পুলিশি তৎপরতায় এড়ানো গেল রক্তপাত!

রাজ্যে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে ‘ছেলেধরা’ গুজব। এবার জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া গরালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক হিন্দিভাষী যুবককে ঘিরে ছড়াল তীব্র উত্তেজনা। শনিবার রাতে গরালবাড়ির চৌধুরীপাড়া এলাকায় এক অপরিচিত যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। নিমেষের মধ্যে ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। তবে গণপিটুনির মতো চরম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবককে উদ্ধার করে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে। তিনি কেন ওই সীমান্ত এলাকায় এসেছিলেন, তার সদুত্তর দিতে না পারায় বাসিন্দারা তাঁকে আটকে রেখে জেরা করতে শুরু করেন। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোতোয়ালি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজনাপ্রবণ এলাকা থেকে যুবককে নিরাপদে থানায় নিয়ে আসা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৌভনিক মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণেই যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অতীতের আতঙ্ক: জলপাইগুড়ি জেলায় ছেলেধরা গুজবের ইতিহাস বেশ রক্তক্ষয়ী। কয়েক বছর আগে ডুয়ার্সে এক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছিল। ধূপগুড়ি ও রাজগঞ্জেও একাধিকবার গণপিটুনির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়েছে এলাকা। সম্প্রতি মেদিনীপুর ও তেহট্টে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে, অপরিচিত কাউকে দেখলে আইন নিজের হাতে না তুলে সরাসরি পুলিশকে খবর দিন। গুজবে কান দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হেনস্থা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।