রাষ্ট্রপতি কি বিজেপির ‘এজেন্ট’? মমতার বিস্ফোরক তোপে রণক্ষেত্র বাংলা, ময়দানে মোদী-শাহ!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক প্রবল সাংবিধানিক সুনামি। শিলিগুড়ি সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ‘অসন্তোষ’ এবং তার পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল, বিজেপি এবং সিপিএম—তিন শিবিরই এখন সম্মুখসমরে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন তৃণমূলকে ‘আদিবাসী বিরোধী’ তকমা দিচ্ছেন, অন্যদিকে ঘাসফুল শিবির পাল্টা তোপ দেগে বলছে—রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে ‘রাজনীতি’ করাচ্ছে বিজেপি।
রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক অভিযোগ ও মোদীর আক্রমণ: শিলিগুড়ির সভা থেকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু অভিযোগ করেন, “আমার মনে হয় কেউ সাঁওতালদের আটকাচ্ছে। কেউ চায় না ওরা একজোট হোক বা শিক্ষিত হোক।” এই মন্তব্যের পরই আসরে নামেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। তাঁদের দাবি, তৃণমূল সরকার আদিবাসী সমাজ এবং দেশের প্রথম নাগরিককে অপমান করেছে। শুভেন্দু অধিকারী থেকে সুকান্ত মজুমদার—সবাই একসুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সংবিধান বিরোধী’ বলে আক্রমণ করেছেন। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, “অন্য দেশ হলে মুখ্যমন্ত্রী এতক্ষণে জেলে থাকতেন।”
তৃণমূলের পাল্টা ‘এজেন্ট’ তত্ত্ব: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনা মঞ্চ থেকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন, “রাষ্ট্রপতিকে দিয়েও রাজনীতি বেচতে পাঠানো হয়েছে।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্রর দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যে আদিবাসীদের ওপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে রাষ্ট্রপতি কেন চুপ? কুণাল ঘোষের স্পষ্ট বক্তব্য, “ভুল তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতি সত্যের অপলাপ করেছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
সিপিএমের অবস্থান: সংঘাতের আবহে মেপে পা ফেলছে আলিমুদ্দিন। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের মতো সাংবিধানিক পদগুলোকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বা ‘এজেন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করলে সেই ব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। এই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা সাজে না।”
রাষ্ট্রপতির এই সফর এবং তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক যে উত্তরবঙ্গের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।