বন্ধুর রক্তে কেনা উপহার! প্রাক্তন স্ত্রীর মন জিততে ৭ বছরের সঙ্গীকে নৃশংস খুন পাষণ্ড যুবকের!

সাত বছরের গভীর বন্ধুত্ব। বিশ্বাস করে মাঝরাতে বেরিয়েছিলেন বন্ধুর সঙ্গেই। কিন্তু সেই বন্ধুই যে যমদূত হয়ে পিছু নিয়েছে, তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি ঢালাইকর্মী পুত্তুরাজু। কর্ণাটকের চিকমাগালুর জেলার বিরুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড হার মানাবে যে কোনও থ্রিলারকেও। শুধুমাত্র বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় স্ত্রীকে দামী উপহার দেওয়ার লালসায় নিজের প্রিয় বন্ধুকে কুপিয়ে খুন করল শফি নামে এক যুবক।
সোনার লোভ দেখিয়ে মৃত্যুপুরীতে: ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ ফেব্রুয়ারি। অভিযুক্ত শফি তার বন্ধু পুত্তুরাজুকে টোপ দেয় যে, একটি ফিনান্স সংস্থায় সোনার নিলাম হচ্ছে এবং সেখান থেকে সস্তায় সোনা কেনা যাবে। বন্ধুর কথায় বিশ্বাস করে রাত ১১টা নাগাদ আড়াই লক্ষ টাকা নগদ নিয়ে শফির বাইকে চড়েন পুত্তুরাজু। শফি তাকে নিয়ে যায় হন্নাবল্লীর নির্জন জঙ্গলের রাস্তায়। সেখানে আগে থেকেই লুকানো ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুত্তুরাজুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শফি। এলোপাথাড়ি কোপে বন্ধুকে খতম করে টাকা নিয়ে চম্পট দেয় সে।
বন্ধুর রক্তমাখা টাকায় রোমান্স: পরদিন সকালে এক দুধওয়ালা জঙ্গলের ধারে রক্তাক্ত দেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। তদন্তে নেমে পুলিশ পুত্তুরাজুর শেষ কল রেকর্ড ও গতিবিধি ট্র্যাক করে শফির সন্ধান পায়। পুলিশ জানতে পেরেছে, খুনের পর ওই টাকা নিয়ে শফি তার প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে একটি লজে দেখা করে। তাকে নগদ ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার পাশাপাশি ওই চুরির টাকা দিয়ে একটি নতুন টিভিও উপহার দেয় সে।
পুলিশের জালে ঘাতক: দীর্ঘ সাত বছরের বন্ধুত্বকে মাত্র কয়েক লক্ষ টাকার বিনিময়ে শেষ করে দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ অভিযুক্ত শফিকে গ্রেফতার করেছে। বিচ্ছেদ হওয়া স্ত্রীর মন ফিরে পেতেই কি এই খুনের পরিকল্পনা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে— তা খতিয়ে দেখছে বিরুর থানার পুলিশ।