হলফনামায় অসঙ্গতি, রাহুল সিনহার মনোনয়ন নিয়ে কমিশনে অভিযোগ TMC-র

রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যসভার মনোনয়ন প্রক্রিয়া সাধারণত মসৃণ হলেও, রাহুলের ক্ষেত্রে তা রূপ নিল এক চরম বিতর্কের। প্রার্থীর হলফনামায় একাধিক ‘গুরুতর তথ্য গোপন’ এবং ‘অসঙ্গতি’র অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

অভিযোগের কেন্দ্রে ‘ফর্ম-২৬’

তৃণমূলের দাবি, রাহুল সিনহার জমা দেওয়া হলফনামার (ফর্ম-২৬) ২৬ নম্বর ক্লজে দেওয়া তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট গরমিল রয়েছে। শাসকদলের অফিসিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেলে অভিযোগপত্রের কপি পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে:

  • সম্পত্তি ও বিনিয়োগ: স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের হিসেবে অস্পষ্টতা।

  • যানবাহন ও দেনা: প্রার্থীর মালিকানাধীন যানবাহন এবং তাঁর আর্থিক দেনা-পাওনার বিবরণেও নাকি বড়সড় অসঙ্গতি রয়েছে।

  • আর্থিক ঘোষণা: হলফনামায় দেওয়া আর্থিক তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।

রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

তৃণমূলের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাদের দাবি, স্ক্রুটিনির সময় শাসকদলের প্রতিনিধিরা এই ত্রুটিগুলি রিটার্নিং অফিসারের নজরে এনেছিলেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই আপত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া কার্যত শেষ হওয়ার পর হঠাতই একটি ‘সংশোধিত হলফনামা’ সামনে আনা হয়, যা আগে জনসমক্ষে বা পোর্টালে আপলোড করা হয়নি। তৃণমূলের প্রশ্ন— নিয়ম ভেঙে কীভাবে এই সংশোধিত হলফনামা গ্রহণ করা হলো?

তৃণমূলের বার্তা: “বিজেপি প্রার্থীর তথ্য গোপনের এই চেষ্টা কি কোনো বড় দুর্নীতির ইঙ্গিত? নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।”

অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে এই আইনি লড়াই যে দু-পক্ষকেই চাপে রাখবে, তা বলাই বাহুল্য।