‘আমি বেঁচে আছি!’ মঞ্চে ২২ জন ‘মৃত’ মানুষ, SIR ইস্যুতে কমিশনকে তুলোধোনা মমতার!

শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূলের ধরনা কর্মসূচির প্রথম পর্ব শেষ হলেও, লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে আন্দোলনের সুর আরও চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, শুক্রবার রাত তিনি ধর্মতলার ধরনা মঞ্চেই কাটাবেন। শনিবার সকাল ১০টা থেকে ফের নতুন উদ্যমে শুরু হবে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি।
রাতভর ধরনা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী
এদিন মঞ্চ থেকেই মমতা ঘোষণা করেন, “রাত ৮টার পর মঞ্চের আলো নিভিয়ে দেওয়া হবে ঠিকই, কিন্তু আমরা এখানেই থাকছি। যারা থাকতে চান, থাকতে পারেন। শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আবার কর্মসূচি চলবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্পষ্ট যে, এসআইআর (SIR) ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস এবার দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের পথে হাঁটছে।
মঞ্চে হাজির ‘জীবিত মৃতদেহ’!
এদিনের কর্মসূচির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করে দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বৈধ ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।
-
২২ জন ‘মৃত’ ব্যক্তি: মমতা এদিন এমন ২২ জনকে মঞ্চে হাজির করার কথা বলেন, যাদের কাগজে-কলমে ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়েছে অথচ তাঁরা বাস্তবে জীবিত।
-
আঙ্কিক লড়াই: মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বাংলার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। এর মধ্যে ৬৩ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে এবং প্রায় ৬০ লক্ষের বিষয় এখনও বিচারাধীন।
মমতার হুঙ্কার: “সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের সময়ও আমি এভাবেই লড়াই করেছিলাম। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিলে তৃণমূল চুপ করে বসে থাকবে না।”
শনিবারের মেগা জমায়েত
শনিবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মেট্রো চ্যানেলে পৌঁছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত থাকবেন শশী পাঁজা, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো প্রথম সারির নেতৃত্ব। এসআইআর ইস্যুতে যারা দিল্লি গিয়ে সরব হয়েছিলেন, সেই পরিবারগুলিও শনিবার ধরনা মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে তৃণমূল ফের একবার সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের আবেগ উসকে দিতে চাইছে। মেট্রো চ্যানেলের এই ধরনা কতদিন চলবে, তা নিয়ে এখন গোটা রাজ্যের নজর।