“মমতা যেখানে, আমি সেখানে”— নন্দীগ্রামের সেই রক্তাক্ত রাতের স্মৃতিচারণায় আবেগপ্রবণ জয় গোস্বামী

কলকাতার রাজপথে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, তখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর লড়াইয়ের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন জানালেন প্রথিতযশা কবি জয় গোস্বামী। নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমানের নানা সামাজিক ইস্যু— মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে কবি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “মৃত্যু পর্যন্ত মমতার পাশেই থাকব।” এদিন ধর্মতলার মঞ্চে নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক রাতের অজানা ইতিহাসও ফের একবার জনসমক্ষে আনলেন তিনি।

সেই ভয়াল রাত ও মমতার লড়াই: ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামের গুলিচালনার স্মৃতিচারণা করে জয় গোস্বামী জানান, সেই রাতে তৎকালীন সরকারের পুলিশের বাধা সত্ত্বেও কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেদ ধরে পৌঁছেছিলেন রক্তাক্ত এলাকায়। কবির কথায়, “পুলিশ তিনবার পথ আটকেছিল। মমতা খোদ প্রণব মুখোপাধ্যায় ও মনমোহন সিংকে ফোন করেন। রাত পৌনে ৪টের সময় তিনি হাসপাতালে পৌঁছান এবং ভোর ৫টায় নন্দীগ্রামে।” এমনকি মহাশ্বেতা দেবীর বাড়িতে বসে রাত ১১টার সময় মুড়ি-চানাচুর খেতে খেতে মমতার শান্তভাবে “কাজ করা ছাড়া আর কী আছে” বলার সেই গল্পও এদিন শোনান কবি।

এসআইআর (SIR) ইস্যুতে কবিকে হেনস্থার অভিযোগ: অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মেজাজ হারান খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের মতো কবি জয় গোস্বামীকেও এসআইআর (SIR)-এর নামে হেনস্থা করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ মমতার দাবি, “ওঁকেও হেয়ারিংয়ে (শুনানি) ডেকে পাঠানো হয়েছিল। এটা ইনসাল্ট (অপমান) আর হিউমিলিয়েশন (লাঞ্ছনা) ছাড়া আর কিছু নয়।” কবির মতো একজন প্রবীণ ব্যক্তিত্বকে কেন সরকারি প্রক্রিয়ার নামে হয়রানি করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

কবির অঙ্গীকার: হাঁসখালি কাণ্ড থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন সঙ্কটে মমতার বিচারবোধের প্রশংসা করে কবি জয় গোস্বামী তাঁর চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “মমতা যেখানে থাকবেন, আমি থাকব। তাঁর পাশেই আমি থাকব।” কবির এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।