ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের কোপ এবার ক্রিকেটে! ইডেনে হেরেও বাড়ি ফিরতে পারছেন না হেটমায়াররা, তুঙ্গে উৎকণ্ঠা

বাইশ গজের লড়াই শেষ হয়েছে ১ মার্চ। ইডেন গার্ডেন্সে ভারতের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু মাঠের লড়াই শেষ হলেও মাঠের বাইরের এক চরম অনিশ্চয়তার লড়াইয়ে এখন তিল তিল করে দগ্ধ হচ্ছেন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটাররা। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় গত পাঁচ দিন ধরে তিলোত্তমায় ‘বন্দি’ হয়ে রয়েছেন ড্যারেন স্যামি, জেসন হোল্ডাররা।
পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, ক্রিকেটারদের মানসিক ধৈর্য এখন ভাঙনের মুখে। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্টে নিজের অসহায়তা উগরে দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ড্যারেন স্যামি। সকাল পৌনে এগারোটা নাগাদ তিনি লেখেন, “আমি শুধু বাড়ি ফিরতে চাই।” বিকেল হতে হতে সেই আর্তি রূপ নেয় ক্ষোভে। স্যামি ফের পোস্ট করেন, “আমাদের অন্তত একটা আপডেট দেওয়া হোক। আজ ফিরব, কাল নাকি পরের সপ্তাহে? পাঁচ দিন হয়ে গেল!” স্যামির এই পোস্টে সহমর্মিতা জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হার্শেল গিবসও। তাঁর মতে, মাঠের বাইরের এই লড়াই অনেক সময় মাঠের থেকেও বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
কেন এই বন্দি দশা? বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে ভারতের কাছে হারের পর সোমবারই বাড়ি ফেরার কথা ছিল শিমরন হেটমায়ার, শাই হোপদের। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠায় বিশ্বজুড়ে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ফেরার যে রুট, তা এখন চূড়ান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে তিলোত্তমার বুকেই কার্যত হোটেলবন্দি হয়ে দিন কাটছে গোটা দলের। বুধবার সময় কাটাতে দলের কয়েকজন ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনাল দেখতে গেলেও, বাড়ির জন্য মন কেমন করছে রাদারফোর্ড, চেজদের। প্রায় এক মাস পরিবারের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের কাছে এখন প্রতিটি সেকেন্ড যেন এক একটি ঘণ্টার সমান। কবে যুদ্ধের মেঘ কাটবে আর কবে তাঁরা প্রিয়জনদের কাছে ফিরবেন, তার উত্তর আপাতত কারও কাছে নেই।