হোলিতে রক্তাক্ত কান্ড, কিশোরের গুলিতে নাবালকের মৃত্যু; গণধোলাইয়ে খুন বাবা

দোলের আনন্দের মাঝেই হাড়হিম করা জোড়া মৃত্যুতে কেঁপে উঠল মালদা। বাইক চালানো নিয়ে সামান্য বচসার জেরে চলল গুলি। কিশোরের চালানো গুলিতে প্রাণ হারাল ১০ বছরের এক নাবালক। আর সেই ঘটনার জেরে ক্ষিপ্ত জনতার গণপিটুনিতে মৃত্যু হলো অভিযুক্ত কিশোরের বাবার। মানিকচক থানার মথুরাপুর কাহার পাড়ায় এই জোড়া মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে এলাকা।
বাবার বন্দুক দিয়ে গুলি চালাল ছেলে পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে বাইক চালানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রেশন ডিলার সমীর দাশগুপ্তর ছেলের সঙ্গে অন্যদের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, মেজাজ হারিয়ে সমীরবাবুর ছেলে তার বাবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুকটি বের করে এনে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। সেই গুলিতে গুরুতর জখম হয় ১০ বছরের শিশু সমর রজক-সহ আরও দুইজন। তড়িঘড়ি তাদের মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোরে মৃত্যু হয় ছোট্ট সমরের।
উত্তেজিত জনতার গণধোলাই নাবালকের ওপর গুলি চালানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। অভিযুক্ত কিশোরের বাইক ধাওয়া করে তার বাড়িতে চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও বাড়িতে থাকা তার বাবা সমীর দাশগুপ্তকে হাতের কাছে পায় উন্মত্ত জনতা। শুরু হয় বেধড়ক মারধর। খবর পেয়ে পুলিশ সমীরবাবুকে উদ্ধার করে মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর।
পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি ঘটনার পর এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন:
-
এই ঘটনায় মোট দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
-
লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
-
এখনও পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তে নেমেছে মানিকচক থানার পুলিশ সামান্য বাইক চালানো নিয়ে কেন এত বড় গোলমাল, আর একজন নাবালকের হাতে বাবার বন্দুক এল কীভাবে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। উৎসবের রাতে এমন নারকীয় ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা মথুরাপুর এলাকায়।