ভোটের আগেই কি ভোটাধিকার হারালেন লাখো মানুষ? কাল ধর্মতলায় মেগা ধর্নায় মুখ্যমন্ত্রী!

রাজ্যের রাজনীতিতে এখন সবথেকে বড় আতঙ্কের নাম ‘এসআইআর’ (SIR)। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। কারও নাম খসড়া তালিকায় থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় তা ‘বিবেচনাধীন’ (Under Consideration), আবার হাজার হাজার মানুষের নাম সরাসরি ‘ডিলিটেড’ (Deleted) বা বাদ দেওয়া হয়েছে। এই নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে এবং ভুল সংশোধনের দাবিতে বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে কৃষ্ণনগর ও বারাসাতের জেলাশাসকের (DM) দপ্তরের বাইরে কয়েক হাজার মানুষের লম্বা লাইন দেখা গেল।
ভোগান্তির একশেষ: কৃষ্ণনগরে ডিএম অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়ানো এক ভোটার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমার বাবার নাম ২০০২ সালের তালিকায় আছে, অথচ আমার নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে! এখন হকারি ফেলে ২৫০ টাকা খরচ করে এখানে লাইন দিতে হচ্ছে। এই হয়রানির দায় কে নেবে?” পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে ভিড় সামলাতে পুলিশকে আসরে নামতে হয়। বারাসাতেও একই ছবি, সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে স্পষ্ট বিরক্তি ও অনিশ্চয়তার ছাপ।
রাজনৈতিক রণক্ষেত্র ও মমতার ধর্না: এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি এখন ফুটছে। বিরোধীরা একে প্রশাসনিক ব্যর্থতা বললেও শাসকদল বিষয়টিকে কেন্দ্রীয় চক্রান্ত হিসেবে দেখছে। এই ইস্যুতেই আগামীকাল অর্থাৎ ৬ মার্চ কলকাতার ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের হয়ে তিনি কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।