বন্ধ হচ্ছে পেট্রোল-ডিজেলের জোগান? হরমুজ সংকটে মধ্যপ্রাচ্যে রণংদেহি ইরান, শুধু ছাড় পেল এক দেশ!

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার বিশ্ব অর্থনীতির শিরদাঁড়ায় আঘাত করল। বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক ও চরম পদক্ষেপ নিয়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দিল ইরান। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা, ইজরায়েল, ইউরোপ এবং তাদের মিত্র দেশগুলির কোনো জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না।

রণংদেহি ইরান ও চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি: গত শনিবার থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তেহরান জানিয়েছে, নিষিদ্ধ দেশগুলির কোনো জাহাজ দেখা গেলে সরাসরি হামলা চালানো হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধের সময় এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান।

চিনকে বিশেষ ছাড়, ভারতের অবস্থান কী? আশ্চর্যজনকভাবে, ইরান শুধুমাত্র চিনা পতাকাবাহী জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিয়েছে। বেজিংয়ের বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থানের পুরস্কার হিসেবেই এই ছাড়। তবে ভারতের মতো দেশগুলি, যারা এই রুটের ওপর জ্বালানি আমদানির জন্য নির্ভরশীল, তাদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগের। যদিও আমেরিকা বা ইউরোপের মতো সরাসরি নিষিদ্ধ তালিকায় ভারত নেই, তবুও সমুদ্রপথে শয়ে শয়ে জাহাজ থমকে থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে।

ইতিহাসে প্রথমবার এমন অচলবস্থা: বিশ্বের মোট সমুদ্রবাহিত তেলের ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে যাতায়াত করে। ১৯৮০-র দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও যা কখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, ২০২৬-এ এসে তা বাস্তবে ঘটল। বর্তমানে কুয়েত ও দুবাইয়ের বাইরে কয়েকশো তেলের ট্যাঙ্কার ও মালবাহী জাহাজ দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতেও পেট্রোপণ্যের দামে বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।