বিহারের মসনদে এবার কে? নীতীশের বিদায়ে কি গদিতে বসছেন ঘরের ছেলেই!

বিহারের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়। দীর্ঘ দুই দশকের নীতীশ-যুগের অবসান ঘটিয়ে এবার জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় পা রাখছেন ‘সুশাসন বাবু’। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন নীতীশ কুমার। আর এই পদক্ষেপের সঙ্গেই বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
নীতীশের বিদায় ও নতুন সমীকরণ বৃহস্পতিবার দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে রাজ্যসভার মনোনয়ন পেশ করেন নীতীশ। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগী বার্তায় তিনি লেখেন, “দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আপনারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য।” নীতীশের এই প্রস্থান বিহারের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করলেও, বিজেপি ও জেডিইউ জোটের অন্দরে নতুন সরকার গঠনের তৎপরতা তুঙ্গে।
মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে কারা? সূত্রের খবর, এবার বিহারে বিজেপির কোনো নেতাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে। বর্তমানে তিনটি নাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে:
-
সম্রাট চৌধুরী: বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং ওবিসি রাজনীতির শক্তিশালী মুখ।
-
নিত্যানন্দ রাই: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং অমিত শাহের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
-
দিলীপ জয়সওয়াল: রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি এবং সংগঠনের পোড়খাওয়া নেতা।
তবে চমক হিসেবে দিঘার ৫ বারের বিধায়ক সঞ্জীব চৌরাসিয়ার নামও উঠে আসছে। লড়াই মূলত সম্রাট চৌধুরী ও নিত্যানন্দ রাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
ছেলের হাতে কি বড় দায়িত্ব? সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারের অভিষেক। যদি নিশান্তকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করা হয়, তবে তা হবে বিহারের রাজনীতিতে এক বড় মাস্টারস্ট্রোক।
দিল্লি যাত্রায় চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট এদিকে, নীতীশের ছায়াসঙ্গী তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লালন সিং আজ অমিত শাহের সঙ্গে একই বিমানে দিল্লি গিয়েছেন। মাঝ আকাশেই বিহারের ভবিষ্যৎ সরকার এবং মন্ত্রিত্বের বন্টন নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়েছে বলে খবর। নীতীশ কুমারের বিদায়ের পর বিহারে কি শুধুই গেরুয়া রাজত্ব চলবে নাকি জেডিইউ-এর প্রভাব বজায় থাকবে, তার উত্তর এখন সময়ের অপেক্ষা।