বিস্ফোরক আবহে রণকৌশল বদল দিল্লির! ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে ফোন ভারতের, নেপথ্যে কি জ্বালানি সংকট?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ঘনীভূত কালো মেঘ। ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার ত্রিমুখী সংঘর্ষে যখন বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল, ঠিক তখনই শান্তির বার্তা নিয়ে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানালেন, “সামরিক অভিযানে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না।” ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া—সবক্ষেত্রেই আলোচনার টেবিলে কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান খোঁজার ডাক দিয়েছেন তিনি।
খামেনেইয়ের মৃত্যু ও ভারতের অবস্থান: গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙেছে নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী ইরানি দূতাবাসে গিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শোকবার্তা জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, এই ইস্যুতে মোদি সরকারের ‘মৌনতা’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীরা। বিরোধীদের সেই চাপের মুখেই কি ভারতের এই সক্রিয়তা? উঠছে প্রশ্ন।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও দুশ্চিন্তা: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এদিন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সরাসরি কথা বলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। ভারতের দুশ্চিন্তার কারণ মূলত দুটি—প্রথমত, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলিতে আটকে থাকা কয়েক লক্ষ ভারতীয় নাগরিক এবং দ্বিতীয়ত, অশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম ও জ্বালানি সংকট। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের আমদানিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।