নীতীশের ইস্তফায় তোলপাড় বিহার! ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগে সরব কংগ্রেস, বিস্ফোরক জয়রাম রমেশ

বিহারের রাজনীতিতে নীতীশ কুমারের রাজ্যসভা যাত্রার সিদ্ধান্ত ঘিরেই এবার শুরু হলো চরম রাজনৈতিক তর্জা। দীর্ঘ সময় ধরে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন থাকার পর নীতীশের এই সরে দাঁড়ানোকে সহজভাবে নিচ্ছে না বিরোধী শিবির। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা সাংসদ জয়রাম রমেশ নীতীশ কুমারের এই পদক্ষেপকে ‘নেতৃত্বের অভ্যুত্থান’ এবং ‘জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে তীব্র আক্রমণ শাণিয়েছেন।
কংগ্রেসের বিস্ফোরক অভিযোগ: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (X) একটি পোস্টে জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন যে, বিহারে যা ঘটছে তা আদতে একটি পরিকল্পিত চিত্রনাট্য। তাঁর দাবি, “বিহার নির্বাচনের সময় কংগ্রেস যা বলেছিল, আজ তাই সত্যি প্রমাণিত হলো। এটি আসলে G2-র দ্বারা পরিকল্পিত একটি অভ্যুত্থান এবং সরকার পরিবর্তন। জনগণের রায়কে এভাবে অপমান করা চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা।”
নীতীশের পালটা বার্তা: অন্যদিকে, ৭৫ বছর বয়সী নীতীশ কুমার তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যসভার সাংসদ হওয়া তাঁর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা। এক্স-এ করা একটি পোস্টে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বিহারের মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট থাকবে। তিনি বলেন, “নতুন সরকার তৈরি হলেও আমার পূর্ণ সহযোগিতা ও পথপ্রদর্শন তাদের সাথে থাকবে। আমি বিশ্বাস করি, নতুন মন্ত্রিসভা বিহারকে আরও উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে।”
বর্ণময় রাজনৈতিক সফর: ১৯৮৫ সালে বিধায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করে নীতীশ কুমার বিহারের রাজনীতিতে দশবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ২০০৫ থেকে ২০২৬—মাঝে সামান্য বিরতি ছাড়া বিহারের শাসনভার ছিল তাঁরই হাতে। বারবার জোট পরিবর্তন করে ‘পল্টুরাম’ কটাক্ষ শুনলেও ২০২৫-এর নির্বাচনে এনডিএ-র দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেছে তাঁর জনপ্রিয়তা। তবে তাঁর এই হঠাৎ প্রস্থান বিহারের রাজনীতিতে নতুন কোনো ঝড়ের ইঙ্গিত কি না, সেটাই এখন দেখার।