‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে উত্তাল হাইকোর্ট! ইতিহাস বনাম আইন; প্রধান বিচারপতির প্রশ্নে বিপাকে মামলাকারী

ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর সবকটি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করার কেন্দ্রীয় আইনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। গত শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে এই সংক্রান্ত বিল পাশ হওয়ার পর তার সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা হয়। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার প্রাসঙ্গিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে।

ইতিহাস বনাম বর্তমান বিতর্ক মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে সওয়াল করেন যে, ১৯৩৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মহাত্মা গান্ধীর পরামর্শেই এই গানের প্রথম দুটি স্তবক গ্রহণ করা হয়েছিল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতেই বাকি চারটি স্তবক বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিশ্বকবি, যা পরবর্তীতে গণপরিষদও মেনে নেয়। কিন্তু কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকায় ছয়টি স্তবকই গাওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা মামলাকারীর মতে সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।

আদালতের কড়া নির্দেশ অ্যাডিশনাল সলিডিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী এই মামলার তীব্র বিরোধিতা করে একে ‘ব্যক্তিগত স্বার্থে করা মামলা’ বলে অভিহিত করেন এবং মামলাকারীর ওপর জরিমানা আরোপের দাবি জানান। পালটা প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, যে ১৯৩৭ সালের ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে এই মামলা করা হয়েছে, তার সপক্ষে অকাট্য নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ পেশ করতে হবে। আগামী ২৩ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে, যেখানে মামলাকারীকে তাঁর দাবির সপক্ষে ঐতিহাসিক তথ্য পেশ করতে বলা হয়েছে।