নবান্ন থেকে সংসদ! রাজীব-কোয়েল-বাবুল-মেনকা: তৃণমূলের ‘চতুর্থী’র মনোনয়নে চাঁদের হাট বিধানসভায়

বৃহস্পতিবার তিলোত্তমার বিধানসভা চত্বর সাক্ষী থাকল এক হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক মুহূর্তের। ২০২৬ সালের রাজ্যসভা নির্বাচনের (Rajya Sabha Election 2026) জন্য ঘাসফুল শিবিরের চার হেভিওয়েট প্রার্থী—রাজীব কুমার, কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয় এবং মেনকা গুরুস্বামী আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিলেন। প্রশাসন, গ্ল্যামার, রাজনীতি এবং আইনের এই চতুর্মুখী মেলবন্ধন নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা।
নতুন অধ্যায়ে কোয়েল ও রাজীবের সংকল্প অভিনেত্রী হিসেবে ২২ বছর দর্শকদের মনে রাজত্ব করার পর এবার সংসদের উচ্চকক্ষে পা রাখছেন কোয়েল মল্লিক। স্বামী নিসপাল সিং রানেকে পাশে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়ে কোয়েল বলেন, “এটি জীবনের এক নতুন অধ্যায়। মানুষের সেবা করার এই বৃহত্তর সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করছি।” অন্যদিকে, রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর কথায়, “এটি এক বিশাল দায়িত্ব। নিষ্ঠার সঙ্গে এই গুরুদায়িত্ব পালন করাই আমার লক্ষ্য।”
বাবুলের হ্যাটট্রিক ও মেনকার সাংবিধানিক লড়াই লোকসভা ও বিধানসভার পর এবার রাজ্যসভা—রাজনীতির আঙিনায় কার্যত ‘হ্যাটট্রিক’ করলেন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। নিজের অভিজ্ঞতাকে গানের মঞ্চের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “মঞ্চে যেমন দর্শকদের অনুরোধে গান গাইতে হয়, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তেমনই মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা আমার কর্তব্য।” অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী জোর দিয়েছেন সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ে। আরজি কর মামলা থেকে ৩৭০ ধারা—আইনি ময়দানের পোড়খাওয়া এই যোদ্ধা জানান, সংসদে সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও সাম্যের অধিকার রক্ষাই হবে তাঁর প্রধান কাজ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারকা ইমেজ আর প্রশাসনিক দক্ষতার এই সংমিশ্রণ রাজ্যসভায় তৃণমূলের উপস্থিতিকে আরও ধারালো করবে।