ওষুধের ব্যাচ নম্বরে বড় জালিয়াতি? বিপাকে দোকানদার, লাইসেন্স বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি নবান্নের!

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনতে এবার বড়সড় অভিযানে নামল ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড। ওষুধের ব্যাচ নম্বরে গরমিলের অভিযোগে এক ওষুধ বিক্রেতাকে ইতিমধ্য়েই শোকজ করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ওই দোকানের লাইসেন্স পাকাপাকিভাবে বাতিল বা সাময়িক সাসপেন্ড করা হতে পারে। ওষুধের গুণমান ও সঠিক ব্যাচ নম্বর নিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ বা আকস্মিক পরিদর্শনের সংখ্যা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যাচ নম্বর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখের (Expiry Date) থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এর ব্যাচ নম্বর। অতীতে স্যালাইন কেস থেকে শুরু করে ওআরএস জালিয়াতির মতো ঘটনায় এই ব্যাচ নম্বর দেখেই বাজার থেকে ত্রুটিপূর্ণ ওষুধ তুলে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। ব্যাচ নম্বরে ভুল থাকা মানেই ওষুধের উৎস ও গুণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসক কাজল কৃষ্ণ বণিক এই ঘটনাকে ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন।

কড়া অবস্থানে বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনও। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক সদস্যকে ওষুধের বিলে ব্যাচ নম্বর এবং এক্সপায়ারি ডেট নির্ভুলভাবে লেখার নির্দেশ দেওয়া আছে। যদি কোনো বিক্রেতার ভুলের কারণে রোগীর কোনো ক্ষতি হয়, তবে অ্যাসোসিয়েশন সেই অসাধু ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়াবে না। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর ও ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড এখন সমন্বয় রেখে কাজ করছে যাতে রাজ্যজুড়ে ওষুধের কালোবাজারি বা ভুল ব্যাচ নম্বরের কারবার বন্ধ করা যায়।