ভোটের মুখে মারাত্মক অভিযোগ! সংখ্যালঘু জেলাগুলোতে বেছে বেছে নাম কাটা? নড়েচড়ে বসল কমিশন

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR (Special Interim Revision) ঘিরে নজিরবিহীন উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। প্রথম পর্বের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের ৫টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা থেকে প্রায় ২৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিসংখ্যান হাতে নিয়েই এবার সরব হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন বেছে বেছে শাসক দলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোর চেষ্টা করছে।

টার্গেটে ৫ জেলা: তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ ও মালদা—এই ৫টি জেলা থেকেই মূলত নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি চলেছে। এই পাঁচ জেলায় ২৩ লক্ষ নাম বাতিল হওয়ার পাশাপাশি আরও ৩৫ লক্ষ নাম বর্তমানে ‘বিচারাধীন’ হিসেবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

  • উত্তর দিনাজপুর: ৯৬ হাজারেরও বেশি নাম কাটা পড়েছে এবং ১ লক্ষ ৩২ হাজার নাম এখনও ঝুলে রয়েছে।

  • সীমান্তবর্তী জেলা: মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেই কেন সবচেয়ে বেশি নাম বাদ দেওয়া হলো, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল।

ভোটের পাটিগণিত: পরিসংখ্যান বলছে, এই ৫ জেলার মোট ১০৫টি আসনের মধ্যে গত নির্বাচনে তৃণমূল জিতেছিল ৯১টিতে। লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি এখানে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিল। তৃণমূলের দাবি, গণতান্ত্রিকভাবে জিততে পারবে না বুঝেই এখন প্রশাসনিকভাবে ভোট কাটার খেলায় মেতেছে গেরুয়া শিবির।

বিজেপির পাল্টা যুক্তি: পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপিও। তাঁদের দাবি, SIR প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক রং দেখা হয়নি। অনেক বিজেপি ভোটারের নামও বাদ গিয়েছে। রাজ্য প্রশাসন শুরু থেকেই কমিশনকে অসহযোগিতা করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বঙ্গ বিজেপি নেতারা। আগামী ৯ মার্চ রাজ্যে আসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ, তার আগেই এই সংঘাত যে আরও বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।