মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে রণংদেহি মমতা! বড়মার তিরোধান দিবসে বিজেপিকে তুলোধনা মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব বিতর্ক। মতুয়া ধর্মগুরু ‘বড়মা’ বীণাপানি দেবীর তিরোধান দিবসে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকত্বের টোপ দিয়ে মতুয়াদের অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।
মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক পোস্ট:
সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বহু বছর ধরে যারা এই দেশে রয়েছেন, তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা অন্যায়।” তিনি সাফ জানান, নাগরিকত্বের নামে কোনও বৈষম্য তিনি মেনে নেবেন না এবং এর বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই জারি থাকবে। তৃণমূলের দাবি, মতুয়ারা জন্মসূত্রেই ভারতের নাগরিক, তাই তাঁদের নতুন করে পরিচয়পত্র দেওয়ার নামে হেনস্থা করা হচ্ছে।
ভোটার তালিকায় অনিশ্চয়তা:
সম্প্রতি প্রকাশিত SIR তালিকায় দেখা গিয়েছে, বনগাঁ, রানাঘাট, নদিয়া ও বসিরহাটের মতো মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অসংখ্য ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ বা ‘Under Process’ হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর ঝুলে রয়েছে। মতুয়াদের একাংশের অভিযোগ, সঠিক নথি থাকা সত্ত্বেও নাগরিকত্বের জটিলতায় তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।
বিজেপির পালটা যুক্তি:
অন্যদিকে, বিজেপি সিএএ (CAA) বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। তাদের দাবি, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা ধর্মীয় শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সুনিশ্চিত করতেই এই আইন। বিজেপির মতে, সিএএ-র মাধ্যমেই মতুয়ারা সম্মানের সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।
উদ্বেগে মতুয়া সমাজ:
নির্বাচন দোরগোড়ায়, অথচ নাগরিকত্বের শংসাপত্র কবে পাওয়া যাবে বা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না— এই আশঙ্কায় দিন কাটছে মতুয়া পরিবারের সদস্যদের। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে নাগরিকত্বের এই ‘ত্রিশঙ্কু’ অবস্থা এখন বনগাঁ থেকে নদিয়া সর্বত্রই আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।