নবান্নের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা! ১৩ মার্চ চাকা বনধের ডাক সরকারি কর্মীদের

পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) ইস্যু এবার এক চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে মোড় নিল। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার বকেয়া মহার্ঘ ভাতা না মেটানোয় এবার নবান্নের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। একই সঙ্গে বকেয়া আদায় ও শূন্যপদে নিয়োগসহ চার দফা দাবিতে আগামী ১৩ মার্চ (শুক্রবার) রাজ্যজুড়ে সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে মামলা ও অভিযোগের পাহাড়:
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, গত মাসেই দেশের শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ইতিমধেই মামলার উল্লেখ দেখা গিয়েছে। সরকারের এই ‘গয়ংগচ্ছ’ মনোভাবের বিরুদ্ধেই এবার আইনি ও রাজপথের লড়াইকে এক সুতোয় বাঁধছে সংগঠন।

১৩ মার্চের ধর্মঘট: কী কী দাবি?
আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং আদালতে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের প্রধান চারটি দাবি হলো:

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে অবিলম্বে বকেয়া ডিএ মেটানো।

যোগ্য অনিয়মিত কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ।

সরকারি দপ্তরের প্রায় ৬ লক্ষ শূন্যপদে স্বচ্ছ ও স্থায়ী নিয়োগ।

প্রতিহিংসামূলক বদলি এবং ডিটেলমেন্ট অবিলম্বে বন্ধ করা।

রাজ্যজুড়ে সাজ সাজ রব:
ধর্মঘট সফল করতে ইতিমধ্যেই ডুয়ার্স থেকে দিঘা— সর্বত্র পোস্টার ও ফ্লেক্স লাগানো শুরু করেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সংগঠনের সাফ বার্তা, যে সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায় মানে না, তাদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতাই একমাত্র পথ। ১৩ মার্চের এই ধর্মঘট সফল হলে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভোটের আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের এই বিদ্রোহ নবান্নের অস্বস্তি যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।