ব্রিটেনের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা! ইরান নয়, তবে নেপথ্যে কে? সাইপ্রাস ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

পশ্চিম এশিয়ার আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম যখন চরম সীমায়, ঠিক তখনই সাইপ্রাসে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (RAF) ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল উত্তেজনা। আকরোতিরিতে ব্রিটিশ বায়ুসেনার রেডার ভেদ করে আছড়ে পড়া সেই ড্রোন নিয়ে প্রথমে ইরানের দিকে আঙুল তোলা হলেও, এখন সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য। ব্রিটেন জানিয়েছে, ওই ড্রোনটি ইরান থেকে ছোড়া হয়নি। তাহলে এই হামলার নেপথ্যে আসলে কে?

আকরোতিরিতে মাঝরাতে হামলা
সাইপ্রাস ১৯৫৭ সালে স্বাধীন হলেও সেখানে এখনও ব্রিটেনের দু’টি সার্বভৌম ঘাঁটি (Sovereign Base Areas) রয়েছে। রবিবার মধ্যরাতের পর আকরোতিরিতে একটি ড্রোন হানা দেয়। সেটিকে রুখতে একাধিক ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান আকাশে ওড়ে, যার মধ্যে একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্তও হয়। সোমবার ফের দু’টি ড্রোন রেডারে ধরা পড়ায় স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এটি কোনো ভুল নয়, বরং সুপরিকল্পিত আক্রমণ। ব্রিটিশ সৈনিক ও তাঁদের পরিবার যেখানে থাকেন, সেখানে এই ড্রোন ঢুকে পড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরান নয়, তবে কি মোসাদের চাল?
প্রাথমিকভাবে ড্রোনটিকে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ (Shahed) বলে শনাক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আকরোতিরি ঘাঁটিতে আছড়ে পড়া ড্রোনটি নিশ্চিতভাবে ইরান থেকে ছোড়া হয়নি।” এই বিবৃতির পরই দানা বাঁধছে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলে দাবি উঠছে যে, ব্রিটেনকে সরাসরি এই যুদ্ধে টেনে আনতেই অন্য কোনো শক্তি এই কাজ করে থাকতে পারে। এমনকি ইজ়রায়েল বিরোধীদের একাংশের দাবি, তুরস্ক বা আমিরশাহির হামলার মতো এর পিছনেও ইজ়রায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হাত থাকতে পারে, যদিও এর কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি।

সাইপ্রাসের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ
এই হামলার জেরে সাইপ্রাসের রাজনীতিও উত্তপ্ত। প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্তোদুলাইডস সাফ জানিয়েছেন, সাইপ্রাস কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিতে চায় না। অন্যদিকে, ব্রিটিশ ঘাঁটির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ। “ব্রিটেনকে এখনই সাইপ্রাস ছাড়তে হবে”—এই দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শত শত বিক্ষোভকারী। যুদ্ধের আঁচে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি এখন বিশ্ব রাজনীতির দাবার ঘুঁটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।