হরমুজ প্রণালী কী? ইরান কেন বন্ধ রেখেছে? ভারতে তেলের দামে কতটা পড়বে প্রভাব?

ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে লাগতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে অশোধিত তেলের দাম বাড়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি চললে শুধু জ্বালানি নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। আর এই পুরো পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে।

কেন আতঙ্কে বিশ্ব? ইরানের তুরুপের তাস হলো হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু সমুদ্রপথটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পথে কোনো তেলের ট্যাঙ্কার দেখা গেলেই তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব একনজরে:

  • তেল সরবরাহ: বিশ্বের মোট অশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই যায়।

  • বিশাল বাণিজ্য: প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই পথে পরিবাহিত হয়, যার বার্ষিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ কোটি টাকা

  • নির্ভরশীল দেশ: ভারত, চিন ও জাপান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এশিয়ায় আসা তেলের ৮২ শতাংশ এই পথ দিয়েই আসে।

ইরানের তেল রাজনীতি ও বর্তমান পরিস্থিতি: আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রতিদিন গড়ে ১.৭ বিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানি করে। গত আর্থিক বছরে তেল বিক্রি করে ইরান রেকর্ড ৬,৭০০ কোটি টাকা আয় করেছে। মজার বিষয় হলো, ইরানের তেলের ৯০ শতাংশই কেনে চিন। ফলে এই পথ বন্ধ হলে চিনের বাজারেও হাহাকার শুরু হবে।

বিকল্প পথের লড়াই: হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌদি আরব ১,২০০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইন তৈরি করেছে যা দিনে ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল পাঠাতে সক্ষম। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও ফুজাইরা বন্দরের মাধ্যমে বিকল্প পথ তৈরি রেখেছে। কিন্তু রয়টার্সের রিপোর্ট বলছে, এই বিকল্প পথগুলো দিয়ে বড়জোর অর্ধেক চাহিদা মেটানো সম্ভব। পুরোপুরি পথ বন্ধ হলে বাজারে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ লক্ষ ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দেবে।

ফল কী হতে পারে? ইতিমধ্যেই ইরানের হামলায় ৩টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ১৫০টি জাহাজ মাঝসমুদ্রে আটকে পড়েছে। যদি দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ চলে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের আকাল পড়বে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের পেট্রোল পাম্প থেকে শুরু করে আপনার রান্নাঘর পর্যন্ত।