জলপাইগুড়িতে দলীয় কার্যালয়েই ‘ধর্ষণ’! মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার চিৎকারে ধরা পড়লেন বিজেপি কর্মী

জলপাইগুড়িতে এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে চরম উত্তেজনা ছড়াল। এই ঘটনায় এক বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতের এই নারকীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে হাতে-নাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বুধবার অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে ওই মহিলাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে স্থানীয় বিজেপি কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকান অভিযুক্ত ব্যক্তি। সেখানে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। মহিলার চিৎকার শুনে আশেপাশের বাসিন্দারা ছুটে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করলেও গ্রামবাসীরা তাঁকে আটকে রাখেন। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “রাস্তা থেকে মহিলাকে তুলে নিয়ে গিয়ে পার্টি অফিসে ধর্ষণ করা হচ্ছিল। মহিলার চিৎকারে আমরা গিয়ে ধরি। আমরা ওর কঠোর শাস্তি চাই।” নির্যাতিতা মহিলা শুধু জানিয়েছেন যে তাঁর বাড়ি শিলিগুড়িতে, তবে মানসিক অবস্থার কারণে বিশদে কিছু বলতে পারছেন না তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপির কার্যালয়েই এই জঘন্য অপরাধ ঘটেছে এবং অভিযুক্ত সক্রিয় বিজেপি কর্মী। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি নেতারা নীতি-আদর্শের কথা বললেও তাঁদের কর্মীরাই এমন ঘৃণ্য কাজ করে বেড়াচ্ছেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি জেলা কমিটি। জেলা কমিটির সদস্য চন্দন বর্মণ বলেন, “রাত ১২টার সময় পার্টি অফিস খোলা থাকে না। বিজেপিকে বদনাম করার জন্য তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে এই চক্রান্ত করেছে। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি আমাদের দলের কেউ নন।” পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। দলীয় কার্যালয়টি সিল করে দেওয়া হতে পারে বলে খবর।