ভোটার তালিকায় নাম ‘বিচারাধীন’, আতঙ্কে চরম পথ বেছে নিলেন যুবক! মগরাহাটে চাঞ্চল্য

রঙের উৎসবের দিনই শোকের ছায়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে। ভোটার তালিকায় নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে থাকায় এবং নাম বাদ পড়ার আতঙ্কে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। মৃত ব্যক্তির নাম রফিক আলি গাজি (৪১)। মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার ঘোলা নয়াপাড়ার এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
পরিবার সূত্রে খবর, এসআইআর (SIR)-এর নোটিস আসার পর থেকেই গভীর উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন রফিক। নিজের ও পরিবারের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র নির্দিষ্ট দফতরে জমাও দিয়েছিলেন তিনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়, তখন আশা নিয়ে নাম দেখতে গিয়েছিলেন রফিক। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন, তাঁর এবং পরিবারের আরও পাঁচ সদস্যের নাম ‘বিচারাধীন’ (Under Inquiry) তালিকায় রাখা হয়েছে। বাড়ি ফিরে আসার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
মঙ্গলবার দোলের সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা যখন বাইরে ছিলেন, সেই সুযোগে ফাঁকা বাড়িতে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন রফিক। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মৃতের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় ১৪১ নম্বর বুথেই রফিকের মতো আরও ১১১ জন বাসিন্দার নাম একইভাবে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য জামসিদুল ইসলাম সর্দার দাবি করেছেন, এটি সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়ার এক গভীর চক্রান্ত। তাঁর অভিযোগ, ২০০২ সাল থেকে তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেক পুরনো বাসিন্দার নাম এবার বিচারাধীন রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের গাফিলতি ও তালিকায় এমন অসঙ্গতির জেরেই কি প্রাণ হারালেন এক অসহায় নাগরিক? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মগরাহাটের অলিতে-গলিতে।