খামেনেই যুগের অবসান, ইরানের মসনদে কি তবে ছেলে মোজতবা? যুদ্ধের আবহে সর্বোচ্চ শাসকের নাম নিয়ে তোলপাড়

ইরানের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ আকাশপথে হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। শুধু খামেনেই নন, সেই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর স্ত্রী, কন্যা এবং পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য। এই চরম সঙ্কটের মুহূর্তে ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ পরবর্তী সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মেজ ছেলে মোজতবা খামেনেইয়ের নাম বেছে নিয়েছে বলে জোরালো খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও অনেক কিছু স্পষ্ট হওয়া বাকি, তবুও ৫৬ বছর বয়সী মোজতবাকে ঘিরেই এখন আবর্তিত হচ্ছে ইরানের ভবিষ্যৎ।

মোজতবা খামেনেই দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের ক্ষমতার অলিন্দে এক অতি পরিচিত কিন্তু লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা ব্যক্তিত্ব। ১৯৬৯ সালে মাশাদে জন্ম নেওয়া মোজতবা ইরাক-ইরান যুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছিলেন। বাবার অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম সামলানোর পাশাপাশি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC)-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা সর্বজনবিদিত। পর্দার আড়াল থেকে তিনি এতদিন দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলেই দাবি করেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা। ২০১৯ সালে আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল এই অভিযোগে যে, কোনও সরকারি পদে না থেকেও তিনি বাবার ক্ষমতায় ভাগ বসিয়েছেন।

তবে মোজতবাকে সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে নিয়োগ করার বিষয়টি ইরানে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব ঘটেছিল মূলত রাজতন্ত্র এবং বংশানুক্রমিক শাসনের অবসান ঘটাতে। এখন খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর যদি তাঁর ছেলের হাতেই শাসনভার যায়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে তা ‘নতুন রাজতন্ত্র’ হিসেবেই প্রতিপন্ন হতে পারে। কূটনীতিকদের মতে, এটি বিপ্লবের আদর্শের পরিপন্থী। অভিযোগ উঠছে যে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি-র প্রবল চাপের মুখেই অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস তড়িঘড়ি মোজতবাকে বেছে নিয়েছে।

বর্তমানে ইরান এক অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ইজরায়েল-আমেরিকার সামরিক অভিযান, অন্যদিকে দেশের ভেতরে নেতৃত্বের বদল— এই জোড়া চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে মোজতবা কতটা সফল হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। যদি তিনি সত্যিই বাবার উত্তরসূরি হিসেবে গদিতে বসেন, তবে ইরানবাসীরা এই বংশানুক্রমিক শাসন কতটা সহজভাবে মেনে নেবেন, তা সময় বলবে। আপাতত এক যুদ্ধবিধ্বস্ত ও নেতৃত্বহীন ইরানের হাল ধরতে তৈরি হচ্ছেন ৫৬ বছরের এই রহস্যময় নেতা।