আরবে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টারে ড্রোন হানা! দাউদাউ করে জ্বলছে পরিকাঠামো, কুয়েতে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি আমেরিকার

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন আর কেবল দুই দেশের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এই আগুনের লেলিহান শিখা এবার সরাসরি আঘাত করল বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থা ‘অ্যামাজন’-কে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত অ্যামাজনের দুটি বিশাল ডেটা সেন্টারে সরাসরি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই অতর্কিত হামলায় দাউদাউ করে জ্বলছে সংস্থার পরিকাঠামো। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কুয়েতে থাকা নিজেদের সমস্ত নাগরিক ও দূতাবাস কর্মীদের জন্য চরম সতর্কতা (Security Alert) জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার রাতে হওয়া এই ড্রোন হামলাটি মূলত প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোকে পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যেই চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অ্যামাজন তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমিরশাহিতে তাদের দুটি প্রধান ডেটা সেন্টারে ড্রোন আছড়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি বাহরাইনেও তাদের একটি ফেসিলিটির কাছে আলাদা করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে ভবনগুলোর কাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে ক্লাউড পরিষেবা ও ডেটা ম্যানেজমেন্টে বড়সড় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এই হামলার পেছনে ঠিক কারা রয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি সংস্থাটি।
অন্যদিকে, এই হামলার পরপরই কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের মিশন কর্মীদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে (Shelter-in-place) যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত মার্কিন নাগরিককে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।” মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে এই ধরণের ‘টেক-অ্যাটাক’ বা প্রযুক্তিগত হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরমাণু কেন্দ্র বা তেল শোধনাগারের পর এখন ডেটা সেন্টারগুলো কেন লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। কুয়েত, বাহরাইন ও আমিরশাহিতে ঘনিয়ে আসা এই যুদ্ধের মেঘ কার্যত গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।