PCB-তে মহাবিস্ফোরণ! বাবর-শাদাবকে নেওয়া নিয়ে বিবাদ, বিশ্বকাপের পরেই পদত্যাগ করলেন আলিম দার

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকল না, তা আছড়ে পড়ল ড্রেসিংরুম থেকে নির্বাচক কমিটির অন্দরেও। দলের শোচনীয় ব্যর্থতার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) নির্বাচক তথা প্রাক্তন কিংবদন্তি আম্পায়ার আলিম দার। সূত্রের খবর, দল নির্বাচন নিয়ে প্রধান কোচ মাইক হেসনের সঙ্গে চরম সংঘাতের জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

বাবর-শাদাবকে নিয়ে সংঘাত: পিটিআই সূত্রে খবর, বিশ্বকাপের দল গঠনের সময় থেকেই আলিম দার বাবর আজম ও শাদাব খানকে নেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। দারের যুক্তি ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের পারফরম্যান্স মোটেও সন্তোষজনক নয়। কিন্তু প্রধান কোচ মাইক হেসন বাবরদের দলে রাখার ব্যাপারে অনড় ছিলেন। মজার বিষয় হলো, হেসনকে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে নির্বাচক কমিটির অন্য সদস্য আসাদ শফিক বা আকিব জাভেদের মতামতকে কার্যত গুরুত্বই দেওয়া হয়নি।

রিজওয়ান বাদ, বাবর ফ্লপ: আলিম দারের ক্ষোভের অন্যতম কারণ ছিল অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার মহম্মদ রিজওয়ানকে দলের বাইরে রাখা। উসমান খানের পরিবর্তে রিজওয়ানকে খেলানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন দার। তাঁর প্রশ্ন ছিল, পারফরম্যান্স ছাড়াই যদি বাবররা সুযোগ পান, তবে রিজওয়ানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার কেন ব্রাত্য থাকবেন? উল্লেখ্য, বিশ্বকাপে বাবর আজম ৫ ম্যাচে মাত্র ৯০ রান করেছেন এবং তাঁর স্ট্রাইক রেট নিয়েও খোদ হেসন অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। অথচ এই বাবরকে খেলানোর জেদই শেষ পর্যন্ত দলের কাল হলো বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

অস্থির পাকিস্তান ক্রিকেট: সালমান আলি আগার নেতৃত্বে পাকিস্তান দল সুপার এইট পর্ব থেকেই ছিটকে গিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের কাছে নেট রান রেটে পিছিয়ে পড়ে বিদায় নিতে হয়েছে বাবরদের। মাঠের এই ব্যর্থতা এখন পিসিবি-র অন্দরমহলের নোংরা রাজনীতিকে সামনে এনে দিয়েছে। আলিম দারের পদত্যাগপত্র এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করলেও, পাকিস্তান ক্রিকেটে যে বড়সড় রদবদল আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, কোচ হেসনের একনায়কতন্ত্র বনাম নির্বাচকদের এই লড়াই জল কতদূর গড়ায়।