১০ ঘণ্টার যাত্রা নাকি ২৫ ঘণ্টা? সস্তায় টিকিট কাটলে ঘুরতে হবে পুরো বিশ্ব, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে চূড়ান্ত দুর্ভোগ

মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল ভারতের সাধারণ বিমান যাত্রীদের ওপর। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় ভারত ও লন্ডনের মধ্যে বিমান চলাচলে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের সামনে এখন কেবল দুটি কঠিন বিকল্প— হয় ৯ লাখ টাকারও বেশি খরচ করে সরাসরি ফ্লাইটে যাওয়া, না হলে সস্তায় টিকিট কেটে ২৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছানো।

৯ লাখের ‘সরাসরি’ আকাশছোঁয়া টিকিট আগামী ৬ মার্চের একটি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, নয়াদিল্লি থেকে লন্ডন হিথরো যাওয়ার জন্য একমাত্র সরাসরি ফ্লাইট হলো ভার্জিন আটলান্টিকের (VS303)। ১০ ঘণ্টার এই সফরের জন্য একমুখী (One-way) টিকিটের দাম চাওয়া হচ্ছে ৯.১২ লাখ টাকারও বেশি। সাধারণ সময়ে যেখানে এই ভাড়া ৪০-৭০ হাজারের মধ্যে থাকে, সেখানে এই আকাশছোঁয়া দাম কার্যত সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। মূলত আকাশপথ পরিবর্তন এবং উড়ানের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

২৫ ঘণ্টার ক্লান্তি বনাম কম ভাড়া যাঁরা এত টাকা খরচ করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য বিকল্প হলো ওয়ান-স্টপ বা কানেক্টিং ফ্লাইট। দুবাই বা অন্য কোনো শহর হয়ে লন্ডন যেতে খরচ পড়বে প্রায় ৪৪ হাজার টাকার কাছাকাছি। কিন্তু সেক্ষেত্রে যাত্রার সময় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৫ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩০ ঘণ্টারও বেশি। অর্থাৎ, সস্তায় যেতে হলে যাত্রীদের অনেকটা সময় বিমানবন্দরে কাটাতে হচ্ছে। মুম্বই থেকে লন্ডনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র ধরা পড়েছে, যেখানে কানেক্টিং ফ্লাইটের সময় ২৬ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

কেন এই অস্থিরতা? ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলির আকাশপথ বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো তাদের রুট বদলে নিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৭০০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে এবং ইউরোপগামী বিমানগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এর ফলে তেলের খরচ বাড়ছে এবং বিমানের সংখ্যা কমছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে টিকিটের ভাড়ায়। আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।