ইরানের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ প্রয়োগ! বন্ধ হরমুজ প্রণালী, তেলের জন্য হাহাকার পড়বে ভারতে?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার এক চরম পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। সংঘাতের চতুর্থ দিনে ইরান তার সবচেয়ে শক্তিশালী চালটি চালল— বন্ধ করে দিল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডসের সরাসরি হুঁশিয়ারি, কোনো জাহাজ যদি এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। এই এক পদক্ষেপেই বিশ্ব বাণিজ্যের বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহের শিরদাঁড়া ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ভারতের ওপর প্রভাব: কেন উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি? হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়া মানে ভারতের অর্থনীতির জন্য এক বিরাট বিপর্যয়। ভারত তার মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ৫০ শতাংশ এবং এলপিজি-র (LPG) ৭০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই দেশে পৌঁছায়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং আরব আমিরশাহির তেল এই পথেই বাজারে আসে। ফলে এই পথ রুদ্ধ হওয়া মানে ভারতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এবং রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।
বিকল্প খুঁজছে ভারত: রাশিয়ার সঙ্গে জরুরি আলোচনা বর্তমানে ভারতের কাছে প্রায় ৭৫ দিনের তেলের ভাণ্ডার মজুত আছে। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসবে। এই চরম সংকট সামাল দিতেই ভারত সরকার ফের রাশিয়ার থেকে তেল কেনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে রাশিয়ার থেকে আমদানি কিছুটা কমিয়েছিল ভারত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুতিন সরকারের সঙ্গেই ভরসা খুঁজছে দিল্লি।
বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতি ফেব্রুয়ারি মাসে এই পথে সামান্য নিয়ন্ত্রণ জারি হতেই তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। এবার সম্পূর্ণ অবরোধের ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। যদি এই অবরোধ কয়েক দিনও স্থায়ী হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের জোগান এক-পঞ্চমাংশ কমে যেতে পারে। যদিও মার্কিন সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু ইরানের কঠোর অবস্থান বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত করছে।