বেকারদের জন্য সুখবর! ট্রেনিং সংস্থাগুলির জন্য কড়া ‘টার্গেট’ যোগী সরকারের, এবার প্রশিক্ষণ নিলেই নিশ্চিত চাকরি?

উত্তরপ্রদেশের যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল যোগী আদিত্যনাথ সরকার। উত্তরপ্রদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট মিশন (UPSDM) এবার রাজ্যের ট্রেনিং পার্টনারদের (ITPs) জন্য সেক্টর অনুযায়ী নির্দিষ্ট টার্গেট বা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NSDC) যোজনার অধীনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিক বা কর্মী তৈরি করা।

সেক্টর অনুযায়ী প্রশিক্ষণের বণ্টন সরকার এবার কোনো দায়সারা প্রশিক্ষণ নয়, বরং সরাসরি শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োজন এমন বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। যেমন, ওয়েলস্পন লিভিং লিমিটেডকে বরেলিতে পোশাক শিল্পে ২০০ জনকে ট্রেনিং দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লখনউতে রেমন্ডের মাধ্যমে টেইলারিংয়ের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়াও হেলথকেয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও বড় লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ট্রেনিং শেষ করার সাথে সাথেই যুবকদের সরাসরি চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।

কড়া নজরদারি ও গুণমান বজায় রাখা প্রশিক্ষণের মান নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নয় প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সর্বোচ্চ ৬০০ ঘণ্টার ট্রেনিং হবে এবং আবাসিক সেন্টারে প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। প্রশিক্ষণের শেষে পরীক্ষা নেবে সংশ্লিষ্ট সেক্টর স্কিল কাউন্সিল, যাতে শংসাপত্রের মান বজায় থাকে।

গাফিলতি করলে কঠোর ব্যবস্থা ট্রেনিং সংস্থাগুলিকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট অর্থবর্ষের মধ্যেই তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে। হাজিরা এবং প্রশিক্ষণের তথ্য নিয়মিত পোর্টালে আপলোড করতে হবে। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সফল হলে তবেই সরকারি অনুদান মিলবে। কোনো রকম অনিয়ম বা লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে সেই সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হতে পারে। মূলত, শিল্পের চাহিদা এবং যুবকদের দক্ষতার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা মুছে ফেলতেই এই ‘মিশন মোড’ পরিকল্পনা যোগী সরকারের।