তেলের ভাণ্ডারে হামলা নয়! ইরান যুদ্ধে এবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসরে রাশিয়ার পুতিন

পশ্চিম এশিয়ার আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ চতুর্থ দিনে পা রাখতেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাত কমাতে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও শক্তি পরিকাঠামো রক্ষা করতে ময়দানে নামলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, পুতিন তা সরাসরি তেহরানকে জানাবেন।
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও কাতারের আমিরের সঙ্গে জরুরি বৈঠক সোমবার পুতিন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমন এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানভির সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেন। সৌদি আরব ও কাতার—উভয় দেশই অভিযোগ করেছে যে, ইরানের হামলায় তাদের সাধারণ নাগরিক ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মহম্মদ বিন সলমন মনে করেন, রাশিয়া এই পরিস্থিতিতে ‘স্থিতিশীল’ ভূমিকা পালন করতে পারে, কারণ ইরানের সঙ্গে মস্কোর সুসম্পর্ক রয়েছে।
আকাশপথ বন্ধ, হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম ইরানের হামলায় ইতিমধ্যেই সৌদি আরবের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ তেল শোধনাগার এবং কাতারের রাস লাফান এলএনজি শক্তি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তেল শিল্প কেন্দ্রেও আগুন লেগেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম টানা তিন দিন ধরে বাড়ছে। দুবাই ও আবু ধাবির আকাশপথ বন্ধ থাকায় পর্যটন ও পরিবহণ শিল্পে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আমেরিকাকে দায়ী করলেন পুতিন তবে পুতিন এই উত্তেজনার জন্য সরাসরি আমেরিকা ও ইজরায়েলকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সশস্ত্র আগ্রাসন’ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনির মৃত্যু এই সংঘাতকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা উত্তেজনা প্রশমিত করার জন্য সবরকম চেষ্টা করবে। পুতিনের এই মধ্যস্থতা কি সত্যিই আরবের তেলের ভাণ্ডার রক্ষা করতে পারবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে সারা বিশ্ব।