“চোখ বুজলেই দেখছি চিলতে আগুন আর বিস্ফোরণ!” মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে শিউরে উঠছেন সুনীল-অরবিন্দরা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ জুড়ে এখন শুধু বারুদের গন্ধ আর কান ফাটানো শব্দ। ইরান, ইজরায়েল ও দুবাইয়ের রণক্ষেত্র থেকে কোনোমতে প্রাণ হাতে করে দেশে ফিরছেন ভারতীয়রা। কিন্তু মাটি ছুঁয়েও কাটছে না আতঙ্ক। ট্রমা আর দুঃস্বপ্নে কার্যত কুঁকড়ে গিয়েছেন সুনীল গুপ্তা বা অরবিন্দর মতো সাধারণ কর্মীরা। তাঁদের কানে এখনো বাজছে মাঝ আকাশে মিসাইল ধ্বংসের শব্দ, আর চোখে ভাসছে আগুনের গোলক।
দিল্লিতে নেমেও কাটছে না ঘোর: মঙ্গলবার দুবাই থেকে বিশেষ বিমানে দিল্লি পৌঁছান সুনীল গুপ্তা। সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে তিনি জানান, বিমানে বসেও প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল এই বুঝি হামলা হলো। সুনীলের কথায়, “যতক্ষণ না দিল্লির মাটি ছুঁয়েছি, এক ফোঁটা স্বস্তি পাইনি। আগে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। চারদিকে যা ঘটছে, তা দেখে শুধু মনে হচ্ছিল যে কোনোভাবে বাড়ি ফিরতে হবে।”
মাঝ আকাশে মিসাইলের লড়াই: নয়ডার বাসিন্দা অরবিন্দ আটকে পড়েছিলেন দুবাইয়ে। তাঁর চোখের সামনেই ঘটেছে ভয়াবহ সব ঘটনা। তিনি বলেন, “আমি নিজে দেখেছি আকাশে বিস্ফোরণ হচ্ছে। ড্রোন আর মিসাইলগুলোকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। যারা বেড়াতে গিয়েছিলেন, তাদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেকেই চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।”
ইরানে আটকে থাকা মেয়ের জন্য হাহাকার: সবচেয়ে করুণ অবস্থা কুনওয়ার শাকিল আহমেদের। তাঁর মেয়ে ইরানে পড়াশোনা করেন। সোমবার মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ওপার থেকে ভেসে আসছিল মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দ। শাকিল জানান, মেয়ের হস্টেলের পাশেই বোমা পড়েছে, বিল্ডিংয়ের কাঁচ আর দেওয়াল ভেঙে পড়ছে। কান্নায় ভেঙে পড়ে শাকিল বলেন, “মেয়ে বলছে চিন্তা না করতে, কিন্তু বাবা হিসেবে আমি জানি পরিস্থিতি কী। এখন শুধু ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছি যেন আবার ওর মুখ দেখতে পাই।”
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগোর বিশেষ বিমানের মাধ্যমে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। তবে আকাশপথের অস্থিরতায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক বিমান পরিষেবা।