মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা! ৪৮ ঘণ্টায় ৮ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে মোদীর ফোন, নেপথ্যে কি বড় কোনো পরিকল্পনা?

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ এবং ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকার সরাসরি সংঘাতের আবহে নজিরবিহীন কূটনৈতিক তৎপরতা দেখালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত ৪৮ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের ৮টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। এই দেশগুলির মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইজরায়েল, সৌদি আরব, জর্ডন, বাহরাইন, ওমান, কুয়েত এবং কাতার।
কেন এই জরুরি তৎপরতা? ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুর পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন অগ্নিকুণ্ড। এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সেখানে বসবাসকারী প্রায় ১ কোটি ভারতীয় প্রবাসীর ওপর। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মোদী সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
মোদীর ‘ফোন ডিপ্লোম্যাসি’র মূল পয়েন্টসমূহ:
-
কাতারের পাশে ভারত: প্রধানমন্ত্রী কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে কথা বলে সে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাতের নিন্দা জানান। পাশাপাশি কাতারে থাকা ভারতীয়দের সুরক্ষার জন্য আমিরকে ধন্যবাদ দেন।
-
ওমান ও কুয়েতকে আশ্বাস: ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স সাবাহ আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহর সঙ্গে কথা বলে মোদী ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর ওপর জোর দেন।
-
জর্ডন ও সৌদি আরবে যোগাযোগ: জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লা এবং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জর্ডন ও সৌদির ওপর হওয়া হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভারত আলোচনার মাধ্যমে শান্তি চায়।
-
নেতানিয়াহুর সঙ্গে বার্তা: এর আগে রবিবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে অবিলম্বে হিংসা বন্ধের ডাক দেন মোদী।
ভারত মনে করে, পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ওপর পড়বে। তাই যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে প্রবাসী ভারতীয়দের রক্ষা করা এবং কূটনৈতিক স্তরে শান্তি বজায় রাখাই এখন দিল্লির অগ্রাধিকার।