“সেকুলারিজম নিপাত যাক!” বিধানসভা ভোটের মুখে মেরুকরণের রাজনীতি তুঙ্গে, শুভেন্দুর মন্তব্যে তোলপাড় বাংলা

দোল উৎসবের রঙে যখন গোটা রাজ্য মেতেছে, ঠিক তখনই ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে চড়ল সংপারদ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে আজ সরাসরি ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র আদর্শকে চ্যালেঞ্জ জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মতিথিতে মুখ্যমন্ত্রীর করা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সূত্রপাত।
ফেসবুক পোস্ট বনাম শুভেন্দুর হুঙ্কার: এদিন সকালে শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মতিথি উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আজকের এই বিশেষ দিনে আমাদের শপথ নিতে হবে যে শ্রীচৈতন্যদেবের বাংলার ধর্মনিরপেক্ষতার, সহিষ্ণুতার গায়ে আমরা দাগ লাগতে দেব না।” মমতার এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা তোপ দাগেন শুভেন্দু। ভবানীপুরের এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ বলেন, “ও সব ধর্ম নিরপেক্ষতা চলবে না। নাস্তিকতা আর সেকুলারিজমকে নিপাত দিতে হবে। এই দেশের নাম হিন্দুস্তান। এখানে হিন্দুরা রাজত্ব করবে।”
ভোটের মুখে তপ্ত মেরুকরণ: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে ধর্ম ও মেরুকরণ যে প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে, শুভেন্দুর এই মন্তব্য তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ‘দুর্গাঙ্গন’ থেকে ‘মহাকাল মন্দির’ তৈরির ঘোষণা করছেন, অন্যদিকে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের কথা বলছেন। পাল্টা হিসেবে বিজেপি নেতৃত্ব রামমন্দিরের শিলাপুজো এবং লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের মতো কর্মসূচিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া: শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘হিন্দুস্তান’ মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে সিপিএম। বাম নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল এবং বিজেপি—উভয় দলই উন্নয়নের আসল ইস্যু থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে ধর্মকে রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসছে। সব মিলিয়ে ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই মন্দির-মসজিদ আর সেকুলারিজম বিতর্কে সরগরম হয়ে উঠছে বাংলার মাটি।