ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে তেলের বাজারে আগুন! সংকট রুখতে মোদী সরকারের হাতে কী সেই ‘ট্রাম্প কার্ড’?

বিশ্ব রাজনীতির দাবানল এবার সরাসরি আঘাত হানছে সাধারণ মানুষের পকেটে। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যেকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত (Iran-Israel War) কেবল মধ্যপ্রাচ্যকে নয়, বরং গোটা বিশ্বের জ্বালানি মানচিত্রকে ওলটপালট করে দিয়েছে। একদিকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা, অন্যদিকে হু হু করে বাড়তে থাকা তেলের দাম—এই দুই সাঁড়াশির চাপে পড়েছে ভারত। তবে ভূ-রাজনৈতিক এই দাবার বোর্ডে ভারত তার বিশেষ কৌশলী ‘ট্রাম্প কার্ড’ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের জন্য সবথেকে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হলো ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz)। ভারতের মোট আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৫০ শতাংশ আসে ইরাক, সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে, যার প্রধান পথ এই প্রণালী। ইরান এই পথ বন্ধ করার হুমকি দেওয়ায় ভারতের সরবরাহ ব্যবস্থা গভীর সংকটে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ২০২৫-এর ডিসেম্বরে রাশিয়া থেকে ভারত প্রতিদিন ১.২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করলেও, ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফ ও চাপের মুখে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ১ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
তবে এই সংকট মোকাবিলায় ভারতের হাতে রয়েছে তিনটি অব্যর্থ অস্ত্র:
-
কৌশলগত তেলের ভাণ্ডার (SPR): বিশাখাপত্তনম, ম্যাঙ্গালোর এবং পাদুর-এর মাটির নিচে থাকা বিশাল তেলের ভাণ্ডার দিয়ে ভারত জরুরি অবস্থায় প্রায় ৭৪ দিন পর্যন্ত দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
-
বিকল্প উৎসের সন্ধান: মধ্যপ্রাচ্যে জটিলতা বাড়লে ভারত আফ্রিকা, আমেরিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলি থেকে আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
-
রাশিয়ান কার্ড: মার্কিন চাপ সত্ত্বেও বাণিজ্যিক স্বার্থে ভারত পুনরায় রাশিয়ার থেকে সস্তায় তেল কেনার গতি বাড়াতে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে।
গ্লোবাল অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘Kpler’-এর বিশেষজ্ঞ সুমিত রিতোলিয়া জানিয়েছেন, ভারতীয় শোধনাগারগুলি ইতিমধ্যেই বিকল্প পথের খোঁজ শুরু করেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানির বিল বাড়বে ঠিকই, কিন্তু নিজস্ব মজুত ভাণ্ডার এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ভারতকে এই চরম বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মোদী সরকার নিজের ‘জ্বালানি সুরক্ষা’ নিশ্চিত করতে কোন চালটি আগে দেয়।