রবীন্দ্র সরোবরে ‘ভিআইপি’ দোল? সাধারণের প্রবেশ নিষেধ হলেও ক্লাব সদস্যদের ছাড় কেন, তুঙ্গে বিতর্ক

দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস হিসেবে পরিচিত রবীন্দ্র সরোবরের পরিবেশ রক্ষা নিয়ে ফের একবার সংঘাতের আবহ। ছট পুজো বন্ধ করতে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর জয় এলেও, দোলের দিনে সরোবরের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে চরম উদাসীনতার অভিযোগ উঠল কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট অথরিটি (KMDA)-র বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করলেও সরোবরের ভেতরে থাকা ক্লাবগুলির সদস্যদের প্রবেশের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর এই ‘দ্বিচারিতা’ নিয়েই সরব হয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা।

কেএমডিএ-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২ মার্চ দুপুর ২টো থেকে ৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সরোবর সাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে। কিন্তু সরোবরের বাফার জোনে অবস্থিত ক্লাবগুলোর সদস্যরা অবাধে প্রবেশ করতে পারবেন। পরিবেশ বিজ্ঞানী সৌমেন্দ্রমোহন ঘোষের মতে, ক্লাবগুলোতে রঙ খেলা বা অনুষ্ঠান হলে সেই বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত জল সরাসরি সরোবরের জলে মিশবে। এতে সরোবরের অত্যন্ত সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আদালতের অবমাননার অভিযোগ: পরিবেশকর্মীদের দাবি, পরিবেশ আদালতের রায়ে সরোবরকে দূষণমুক্ত রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য নিয়ম এক আর ক্লাব সদস্যদের জন্য অন্য—এই বৈষম্য আইনত ভুল। দীর্ঘদিন ধরে সরোবরের পলি তোলা না হওয়ায় এমনিতেই জলস্তর ও বাস্তুতন্ত্র সংকটে। তার ওপর এই ধরণের ইভেন্ট সরোবরের মরণঘণ্টা বাজিয়ে দিতে পারে। এই মর্মে কেএমডিএ-কে চিঠি দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ। সরোবর বাঁচাতে ক্লাবগুলোকেও বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন প্রাতঃভ্রমণকারীরা।