তারকেশ্বরের দুধপুকুরে হাড়হিম কাণ্ড! দোল খেলে স্নানে নেমেই তলিয়ে গেল স্কুলছাত্র, এলাকায় হাহাকার!

দোলের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল হাহাকারে। রঙের উৎসবে মেতে ওঠার পর বন্ধুদের সঙ্গে তারকেশ্বর মন্দিরের পবিত্র দুধপুকুরে স্নান করতে নেমেছিল এক স্কুলছাত্র। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দই জীবনের শেষ দোল হয়ে দাঁড়াবে! মঙ্গলবার দুপুরে তারকেশ্বরের দুধপুকুরে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল চঞ্চল ঘোষ নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্র। ঘটনার পর চার ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও নিখোঁজ ওই কিশোর। ডুবুরি নামিয়ে পুকুরে তল্লাশি চালানো হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও হদিশ মেলেনি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নাগাদ এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। তারকেশ্বরের ভনজীপুর গ্রামের বাসিন্দা চঞ্চল ঘোষ এবং তার কয়েকজন বন্ধু মিলে সকালে দোল খেলেছিল। তারা সকলেই তারকেশ্বরের ভনজীপুর দেশবন্ধু বিদ্যানিকেতন স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। রং খেলা শেষ করে তারা সবাই মিলে তারকেশ্বর মন্দিরের দুধপুকুরে স্নান করতে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, স্নান করার সময় হঠাৎ করেই গভীর জলে তলিয়ে যায় চঞ্চল। বন্ধুরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও পুকুরের গভীরতা বেশি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে সে চোখের আড়ালে চলে যায়।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি পুকুরে নেমে তল্লাশি শুরু করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তারকেশ্বর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চন্দননগর থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ডুবুরি আনা হয়। দুপুর ১টা থেকে টানা তল্লাশি চললেও বিকেলের শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চঞ্চলের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “আমরা যখন খবর পাই তখন দুপুর প্রায় সাড়ে এগারোটা। এসে দেখি বাচ্চাটি জলে তলিয়ে গেছে। ওরা সবাই মিলে রং খেলে আনন্দ করছিল, কিন্তু এমন বিপদ হবে কেউ ভাবেনি।” চঞ্চলের বাড়িতে এই খবর পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মা-বাবার কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে ভনজীপুর গ্রামের আকাশ-বাতাস। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে এবং পুকুরের সমস্ত কোণ তল্লাশি করা হচ্ছে। রঙের উৎসবের দিন তারকেশ্বর মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে এই দুর্ঘটনা ভক্ত ও পর্যটকদের মনেও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।