সাতসকালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া! রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৬.২, ফিরছে কি ২০০৪-এর সেই বিভীষিকা?

ফের প্রকৃতির রোষের মুখে ইন্দোনেশিয়া। মঙ্গলবার সকালে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকা। জাতীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্রের (NCS) রিপোর্ট অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৬ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.২, যা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী বলে মনে করা হচ্ছে।

হঠাৎ হওয়া এই কম্পনে মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন শয়ে শয়ে মানুষ। যদিও প্রাথমিক খবর অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে প্রশাসনের আশঙ্কা—অনেক জায়গায় সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার কাজে নেমেছে।

ইন্দোনেশিয়ার জন্য ভূমিকম্প নতুন কোনও বিষয় নয়, কিন্তু রিখটার স্কেলে ৬-এর ওপর মাত্রা মানেই তা বড়সড় বিপদের সংকেত। আজকের এই কম্পন সাধারণ মানুষের মনে ১০ বছর আগের সেই ভয়াবহ স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। ২০১৬ সালে এমনই এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল সুমাত্রা। সেবার ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘুমের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছিলেন শতাধিক মানুষ। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিল লাশের স্তূপ আর ধ্বংসস্তূপ। তারও আগে ২০০৪ সালের সেই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প ও সুনামির কথা ভাবলে আজও শিউরে ওঠে বিশ্ববাসী। সেবার সুমাত্রায় কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৫, যার উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৭ কিলোমিটার গভীরে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ার কারণে ইন্দোনেশিয়া বারবার এই ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে। আজকের ৬.২ মাত্রার কম্পনটি সেই ২০০৪ এবং ২০১৬-র স্মৃতি ফিরিয়ে দিলেও, প্রশাসন আশাবাদী যে এবার হয়তো বড় কোনও বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে। আপাতত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।