পেনশনভোগীদের জন্য বাম্পার ধামাকা! ২ লক্ষের সীমা পার হলেও মিলবে ক্যাশলেস চিকিৎসা, মমতার সরকারের বড় ঘোষণা

চলতি বছরের শুরু থেকেই একের পর এক সুখবর পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা। ডিএ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ডামাডোলের মাঝেই এবার রাজ্যের পেনশনভোগীদের জন্য এক বিশাল পদক্ষেপ নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। পশ্চিমবঙ্গ হেলথ স্কিম (WBHS) নিয়ে জারি করা হয়েছে নয়া বিজ্ঞপ্তি, যা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের চিকিৎসার দুশ্চিন্তা এক লহমায় দূর করে দেবে।

হেলথ স্কিমে নয়া নিয়ম: কী বদলালো?
এতদিন পর্যন্ত ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের অধীনে পেনশনভোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রে (IPD) সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস সুবিধা পেতেন। বিল ২ লক্ষ টাকা অতিক্রম করলে বাকি টাকা নিজেদের পকেট থেকে দিতে হতো, যা পরে রিমবার্সমেন্টের মাধ্যমে ফেরত পাওয়া যেত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই অবসর বয়সে এই বিপুল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ত। এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করল রাজ্য অর্থ দপ্তরের মেডিক্যাল সেল। নয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে ২ লক্ষ টাকার সীমা অতিক্রম করলেও মিলবে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ।

ইন-সার্ভিস কর্মীদের মতোই সুবিধা পাবেন পেনশনাররা
উল্লেখ্য, এতদিন এই বাড়তি ক্যাশলেস সুবিধা বা অগ্রিম নেওয়ার সুযোগ কেবল কর্মরত (In-Service) কর্মীরাই পেতেন। অবসরপ্রাপ্তদের জন্য এই দ্বার বন্ধ ছিল। এখন থেকে পেনশনভোগীদের চিকিৎসার খরচ ২ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও সরকার সেই ভার বহন করবে। এর ফলে জটিল অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার ক্ষেত্রে পেনশনারদের আর অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হবে না।

সুবিধা পাওয়ার শর্তাবলী:
এই নয়া ক্যাশলেস সুবিধা পেতে পেনশনভোগীদের কয়েকটি সহজ শর্ত মানতে হবে:

শুধুমাত্র আইপিডি (IPD): এই সুবিধা কেবল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

চিকিৎসা চলাকালীন আবেদন: চিকিৎসার শুরুতে কোনো আগাম এস্টিমেট জমা দেওয়া যাবে না। চিকিৎসা চলাকালীন খরচ ২ লক্ষ টাকা পার হওয়ার উপক্রম হলে তবেই আবেদন করা যাবে।

৭৫% অনুমোদন: হাসপাতালের দেওয়া এস্টিমেটের ৭৫ শতাংশ টাকা (১০০০ টাকার গুণিতকে) রাজ্য সরকার সরাসরি অনুমোদন করবে।

১০ দিনের অনুমোদন: প্রতিবার আবেদনের ভিত্তিতে ১০ দিনের জন্য এই ক্যাশলেস অনুমোদন মিলবে। চিকিৎসা দীর্ঘস্থায়ী হলে পুনরায় একই পদ্ধতিতে আবেদন করা যাবে।

তবে মনে রাখা ভালো, হেলথ স্কিমের তালিকার বাইরে কোনো অতিরিক্ত খরচ বা বিলাসিতার বিল হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।